ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬ ফুটবলের ফাইনাল ম্যাচ দেখতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলের খেলার মাঠে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। রোববার (১৯ জুলাই) দিবাগত রাতে বড় পর্দায় খেলা দেখতে মাঠজুড়ে হাজারো দর্শক অবস্থান নেন। দর্শকদের চাপে মাঠে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। বসার জায়গা নিয়ে কয়েক দফায় বহিরাগত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির ঘটনাও ঘটে।
সরেজমিনে দেখা যায়, খেলা শুরুর অনেক আগেই মুহসীন হলের পুরো মাঠ দর্শকে পূর্ণ হয়ে যায়। মাঠের চারপাশ, প্রবেশপথ এমনকি দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে খেলা দেখার অপেক্ষায় ছিলেন। বসার জায়গা না পেয়ে অনেকেই মাঠের একপাশে কিংবা চলাচলের পথেই অবস্থান নেন।
মুহসীন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান বলেন, এত মানুষ হবে ভাবিনি। শুরুতে আমরা বসতে পারলেও পরে বহিরাগতদের ভিড়ে জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে যায়। কয়েক জায়গায় বসা নিয়ে তর্কও হয়েছে।
রাজধানীর উত্তরা থেকে আসা রাকিবুল ইসলাম বলেন, বড় পর্দায় বিশ্বকাপের ফাইনাল দেখার আলাদা আনন্দ আছে। তাই বন্ধুদের নিয়ে এসেছি। ভিড় অনেক হলেও পরিবেশটা দারুণ লাগছে।
পুরান ঢাকার বাসিন্দা সাব্বির হোসেন বলেন, মাঠে জায়গা না পেয়ে অনেকেই দাঁড়িয়ে খেলা দেখছেন। তারপরও সবাই খেলা উপভোগ করতে চাইছেন।"
মাঠে উপস্থিত কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, দর্শকের চাপ বাড়ার পর বসার জায়গা নিয়ে কয়েক দফায় বাকবিতণ্ডা হলেও উপস্থিত স্বেচ্ছাসেবক ও আয়োজকদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বড় ধরনের কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
বড় পর্দায় খেলা দেখার এ আয়োজন করেছে সরকারের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল। পুরো মাঠজুড়ে বড় পর্দার সামনে দর্শকদের উচ্ছ্বাস ছিল চোখে পড়ার মতো।
এদিকে শুধু মুহসীন হল মাঠই নয়, টিএসসি, রাজু ভাস্কর্য, স্বোপার্জিত স্বাধীনতা চত্বরসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানেও দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাম্পাসে মানুষের সংখ্যা আরও বাড়তে থাকে।
এর আগে ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬ ফুটবলের ফাইনাল উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা দেয়। সন্ধ্যা থেকে রাত সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বিভিন্ন প্রবেশপথে কড়াকড়িও দেখা যায়। তবে রাত সাড়ে ১১টার পর বিভিন্ন ফটক দিয়ে বহিরাগতদের অবাধে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করতে দেখা যায়। অনেকেই রিকশা, মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়িতে ক্যাম্পাসে এসে বড় পর্দায় খেলা দেখার জন্য জড়ো হন।
এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এমডিএএ/এমএসএম








