শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্রের’ প্রতিবাদে আজ সোমবার সকাল ১১টায় ঢাকার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারী চাকুরী জাতীয়করণ ঐক্যজোট। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে হওয়া এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের আন্দোলনের তীব্র নিন্দা জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের সদস্য সচিব মো. সেলিম মিয়া। তিনি বলেন, ‘বিএনপি যখনই দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে, তখনই শিক্ষকদের মর্যাদা দিয়েছেন। জিয়াউর রহমান মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিক, যুগোপযোগী ও বিজ্ঞানভিত্তিক করার লক্ষ্যে ১৯৭৮ সালে এক অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠা করেন।’

সেলিম মিয়া বলেন, ‘বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, গাজীপুর, আইআইইউটি গাজীপুর, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করে ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে সারাদেশে মসজিদ ভিত্তিক গণশিক্ষা চালু করে মাদ্রাসা ও ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও কর্মমুখী করার দ্বার উন্মোচন করেন। বেগম খালেদা জিয়া বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকুরী জাতীয়করণের যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, সেটা ফ্যাসিস্টরা ১৭ বছরে ক্ষমতায় থেকে ধ্বংস করেছে।’

মো. সেলিম মিয়া আরও বলেন, শিক্ষামন্ত্রী মিলন শিক্ষাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করেছেন। তা ব্যাহত করার লক্ষ্যে ‘স্বার্থান্বেষী মহল জঙ্গিগোষ্ঠীদের ভুল বুঝিয়ে ভাঙচুর, রাস্তা-ঘাট অবরোধ, যানবাহন চলাচলে বাধা সৃষ্টি করে জনজীবনে অচলাবস্থা সৃষ্টি করে চলছে’ এবং শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে পদত্যাগের দাবি তুলে ‘৭১ পরাজিত শক্তি, ২৪ পরাজিত শক্তি আর একটি ইউনাইটেড ফোর্স’ রাষ্ট্র ও জাতির জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলন থেকে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নিজ নিজ শিক্ষার্থীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের আহ্বায়ক মাওলানা মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘কিছু অছাত্র সুযোগ্য শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধে যে ষড়যন্ত্র করছে আমরা সেটার নিন্দা জানাই। আমাদের এই শিক্ষামন্ত্রীর বিকল্প নাই। শিক্ষামন্ত্রীর পক্ষে যদি আন্দোলন করতে হয়, আমরা তীব্র আন্দোলন গড়ে তুলবো।’

সংবাদ সম্মেলনে ননএমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তকরণ এবং এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকুরী জাতীয়করণের দাবিও জানানো হয়।