বরিশালের গৌরনদী উপজেলার একটি আবাসিক মাদ্রাসার কক্ষ থেকে জান্নাতুল ফেরদাউজ (১১) নামে এক ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার দিবাগত রাতে উপজেলার গেরাকুল গ্রামের সীমান্তবর্তী কাসেমাবাদ এলাকায় অবস্থিত মিফতাহুল জান্নাহ্ হিফজুল কোরআন মডেল মহিলা মাদ্রাসা থেকে ওই ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
জান্নাত রাজশাহীর নওগাঁ জেলার আত্রাই থানার নালুয়া গ্রামের বাসিন্দা সৌদিপ্রবাসী মো. সান্টুর মেয়ে। সে তার নানাবাড়ি গৌরনদীর কাসেমাবাদে মৃত সাহেব আলী ফকিরের বাড়িতে মায়ের সঙ্গে থাকত।
পুলিশ জানিয়েছে মাদ্রাসা থেকে ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার তদন্ত চলছে।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গেরাকুল গ্রামের কাসেমাবাদ এলাকায় বাড়ি ভাড়া নিয়ে গত বছরের নভেম্বর থেকে মিফতাহুল জান্নাহ্ হিফজুল কোরআন মডেল মহিলা মাদ্রাসা নামে একটি আবাসিক মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন দক্ষিণ পিঙ্গলাকাঠি গ্রামের বাসিন্দা মো. শাহজাহান খন্দকারের ছেলে মো. আবু ইউসুফ খন্দকার। মাদ্রাসাটিতে রয়েছেন দুই শিক্ষিকা এবং ১৫ ছাত্রী।
জান্নাতুল ফেরদাউজের মা সুবর্ণা বেগম অভিযোগ করেন, তাঁর স্বামী প্রবাসে থাকেন। তিনি দুই মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ি কাসেমাবাদ গ্রামে বসবাস করে আসছেন। আবাসিক ওই মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগের শিক্ষার্থী ছিল তাঁর মেয়ে জান্নাতুল ফেরদাউজ। তাঁর মেয়ের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে প্রশাসনের প্রতি তিনি দাবি জানান।
মাদ্রাসার একাধিক ছাত্রী জানায়, সোমবার সন্ধ্যার পর মাদ্রাসার একটি কক্ষ ভেতর থেকে বন্ধ দেখতে পায় তারা। এতে সন্দেহ হলে বাইরে থেকে জানালার গ্লাস দিয়ে তারা দেখতে পায়, ভেতরে কেউ জানালার গ্রিলের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে ঝুলে রয়েছে। এ সময় তাদের চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ও মাদ্রাসার শিক্ষিকারা কক্ষটির দরজা ভেঙে জান্নাতুল ফেরদাউজকে উদ্ধার করেন। রাতে পুলিশ এসে ঘটনার তদন্ত শুরু করে।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিক হাসান রাসেল জানান, মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য থানায় আনা হয়েছে। পুরো ঘটনাটির তদন্ত চলছে।








