বর্ষার আগমনে পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলায় বেড়েছে ছাতা ব্যবহারের চাহিদা। সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে ভ্রাম্যমাণ ছাতা কারিগরদের ব্যস্ততা। নতুন ছাতার চড়া দামের কারণে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো এখন পুরোনো ছাতা মেরামত করতেই বেশি ভিড় করছে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে।সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কারিগরদের এখন দম ফেলার সময় নেই। পত্তাশী ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের কারিগর মো. কালাম জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই পেশার সঙ্গে জড়িত। বছরের ৬ মাস তিনি ছাতা মেরামতের কাজ করেন এবং বাকি সময় অন্য পেশায় শ্রম দেন। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি এখন ব্যস্ত থাকেন নষ্ট ছাতা সারাতে।নতুন ছাতা না কিনে পুরোনো ছাতা মেরামত করতে আসা ইন্দুরকানী সদর ইউনিয়নের উত্তর ভবানীপুর গ্রামের শাহ আলম হাওলাদার বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে ঘরের বাইরে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এই মুহূর্তে নতুন ছাতা কেনা আমার পক্ষে সম্ভব নয়, তাই পুরোনোটিই সারাতে নিয়ে এসেছি।’একই চিত্র দেখা গেল দক্ষিণ ইন্দুরকানী গ্রামের গৃহিণী তহমিনা বেগমের ক্ষেত্রেও। তার স্বামী অন্যের জমিতে কাজ করেন। ৪ ছেলেমেয়ের মধ্যে ৩ জনই স্কুল-কলেজে পড়ে। তহমিনা বলেন, ‘এখন বৃষ্টির দিন, ছেলেমেয়েরা প্রাইভেট পড়তে গেলে ছাতা ছাড়া উপায় নেই। নতুন ছাতা কিনতে অনেক টাকা লাগে। তাই ১০০ টাকা দিয়ে দুটি পুরোনো ছাতা মেরামত করিয়ে নিলাম।’স্থানীয়রা বলছেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে নতুন ছাতা কেনা অনেকের জন্যই বিলাসিতা। তাই কম খরচে পুরোনো ছাতা মেরামত করে বৃষ্টি থেকে বাঁচার চেষ্টা করছেন সাধারণ মানুষ।
রাজনীতি
ছাতা কারিগরদের পোয়াবারো, দম ফেলার সময় নেই

শেয়ার করুন







