একাত্তরের রণাঙ্গনে জীবন বাজি রেখে দেশের জন্য লড়া বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. বাহাউদ্দীন মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।

রাজধানীর কদমতলির মোহাম্মদবাগের এই প্রবীণ বাসিন্দা রোববার (১৯ জুলাই) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বার্ধক্যজনিত জটিলতায় তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পরিবার। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।

একজন মুক্তিযোদ্ধার প্রতি রাষ্ট্রের যথাযথ সম্মান জানাতে বাদ জোহর ঢাকা জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে গার্ড অব অনারের মাধ্যমে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষ বিদায় জানানো হয়। স্ত্রী ও চার সন্তান রেখে গেছেন এই বীর সন্তান, যাদের জন্য তিনি রেখে গেলেন এক গৌরবময় উত্তরাধিকার।

আরও পড়ুন

দুই দশক আগে কল্যাণপুরে যুবককে হত্যা, দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড

১৯৭১ সালের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে সিলেটের ভোলাগঞ্জে ৫ নম্বর সেক্টরে অগ্রসেনা হিসেবে অংশ নেন বাহাউদ্দীন। রণাঙ্গনে মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষার স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে তিনি হয়ে ওঠেন মুক্তিযুদ্ধের এক নীরব কারিগর।

চার ভাই ও ছয় বোনের মধ্যে পঞ্চম সন্তান ছিলেন তিনি। কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচর উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে জন্ম নিলেও শিক্ষা ও কর্মজীবনের পুরোটাই কাটে ঢাকায়। স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইসলামের ইতিহাস বিভাগে স্নাতক পাস করেন। পরবর্তীতে ইংরেজিতে মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

দেশের গণ্ডি ছাড়িয়ে জাপান ও সিঙ্গাপুরেও উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন এই মেধাবী মানুষটি।

কর্মজীবনে বাংলাদেশ ব্যাংকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দায়িত্ব পালনের পর সর্বশেষ কদমতলির মোহাম্মদবাগ আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান শিক্ষক হিসেবে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেন বাহাউদ্দীন। কর্মজীবন শেষে অবসরের নিরিবিলি সময়েই নীরবে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন এই বীর মুক্তিযোদ্ধা, রেখে গেলেন এক অনুপ্রেরণাদায়ী জীবনের গল্প।

এফএইচ/এমআরএম