বাংলা চলচ্চিত্রের শক্তিমান অভিনেতাদের কথা উঠলে যে কজনের নাম প্রথম সারিতে আসে, তাদের অন্যতম রাইসুল ইসলাম আসাদ। পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে অভিনয়ে মুগ্ধ করে চলা এই গুণী শিল্পী আজ ৭৩ বছরে পা রাখলেন।
আরও পড়ুন
নায়িকা রোজিনার পর এবার পৈতৃক ভিটায় মসজিদ নির্মাণ করছেন ববিতা
জন্মদিন এলেই যেখানে তারকাদের ঘিরে থাকে কেক, ফুল আর শুভেচ্ছার বন্যা, সেখানে রাইসুল ইসলাম আসাদের কাছে দিনটি একেবারেই অন্যরকম। তিনি জন্মদিনকে উৎসবের দিন মনে করেন না, বরং মনে করেন বাবা-মাকে স্মরণ করার দিন।
এ কারণেই জন্মদিন প্রসঙ্গে তার মুখে শোনা যায় এক গভীর আবেগমাখা স্বীকারোক্তি। বেশ কয়েক বছর আগে তিনি এক সাক্ষাৎকারে জাগো নিউজকে বলেন, ‘জন্মগ্রহণ করে পৃথিবীতে আসার পেছনে কিন্তু আমার কোনো হাত নাই। যাদের জন্য আমার পৃথিবীতে আসা, তারা হলেন আমার বাবা-মা। যারা আমাকে জন্ম দিয়েছেন তারা দু’জনই এখন পৃথিবীতে নাই। তাদেরকে ছাড়া আবার জন্মদিন হয় নাকি!’
এই কয়েকটি বাক্য যেন একজন শিল্পীর জীবনের দর্শনই তুলে ধরে। বয়স বাড়ার বিষয়টিকেও তিনি অন্যভাবে দেখেন। তার ভাষায়, মানুষ আসলে বয়স বাড়ায় না বরং প্রতিটি জন্মদিন তাকে মৃত্যুর আরও এক ধাপ কাছে নিয়ে যায়। তাই এই দিনটিকে তিনি কখনো আনন্দের উপলক্ষ হিসেবে দেখেননি।
বরাবরের মতো এবারও জন্মদিন কাটছে নিজের বাসাতেই, খুবই সাধারণভাবে। সবার কাছে শুধু একটি প্রার্থনাই তার- সুস্থ থাকবেন, ভালো থাকবেন।
১৯৫২ সালের ১৫ জুলাই ঢাকায় জন্ম নেওয়া রাইসুল ইসলাম আসাদ ছিলেন ঢাকা কলেজিয়েট স্কুলের ছাত্র। কৈশোর পেরোনোর আগেই দেশজুড়ে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার সংগ্রামে অস্ত্র হাতে যোগ দেন তিনি। যুদ্ধশেষে নতুন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক জাগরণের সময় ১৯৭২ সালে বেতার, মঞ্চ ও টেলিভিশনে অভিনয় শুরু করেন। এক বছর পর খান আতাউর রহমান পরিচালিত ‘আবার তোরা মানুষ হ’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক ঘটে তার।
এরপর ধীরে ধীরে তিনি হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য অভিনেতা। ‘ঘুড্ডি’, ‘পদ্মা নদীর মাঝি’, ‘অন্য জীবন’, ‘দুখাই’, ‘লালসালু’, ‘ঘানি’, ‘মৃত্তিকামায়া’, ‘গহীন বালুচর’, ‘আলতা বানু’, ‘কিত্তনখোলা’- এমন অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। তার মধ্যে ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ ছবির কুবের চরিত্রটি প্রজন্মের পর প্রজন্ম জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আজকালের তরুণ প্রজন্মও নানা কারণে ট্রল করতে ব্যবহার করেন এই সিনেমার একটি ছবি। যেখানে দেখা যায় কুবের চরিত্রের আসাদ ও কপিলা চরিত্রে ভারতের অভিনেত্রী রুপা গাঙ্গুলীকে।
পাশাপাশি ‘ঘুড্ডি’ সিনেমায় সুবর্ণ মুস্তাফার বিপরীতে তার নায়কোচিত দারুণ অভিনয় আজও মুগ্ধ করে দর্শককে।
‘ঘুড্ডি’র দৃশ্যে রাইসুল ইসলাম আসাদ ও সুবর্ণা মুস্তাফা
অভিনয়ের স্বীকৃতি হিসেবে ছয়বার অর্জন করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার, যা দেশের খুব কম অভিনেতারই অর্জন।
ব্যক্তিজীবনেও তিনি বরাবরই ছিলেন সাদামাটা। ১৯৭৯ সালে তাহিরা দিল আফরোজের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের একমাত্র কন্যা রুবায়না জামান। খ্যাতির শীর্ষে থেকেও ব্যক্তিগত জীবনকে সবসময় প্রচারের আলো থেকে দূরে রেখেছেন তিনি।
আরও পড়ুন
হঠাৎ আদালতে নায়িকা ববি, ১ হাজার টাকার বন্ডে মিললো জামিন
কয়েক বছর ধরে অভিনয়ের ব্যস্ততা কিছুটা কমলেও থেমে যাননি। এখনও ভালো গল্প ও শক্তিশালী চরিত্র পেলে ক্যামেরার সামনে দাঁড়ান। শিগগিরই নতুন চলচ্চিত্র ‘আদম’-এর শুটিংয়ে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তার।
এলআইএ








