অস্ত্র হাতে মহান মুক্তিযুদ্ধে লড়েছিলেন দেশের স্বাধীনতার জন্য। আর স্বাধীনতার পর একই নিষ্ঠা, স্বপ্ন ও সাহস নিয়ে নেমে পড়েন অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রামে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, দেশীয় শিল্পের বিকাশ এবং স্বাধীন গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম রেখে গেছেন অনন্য দৃষ্টান্ত। জুলাই বিপ্লবের রক্তে রঞ্জিত এই মুক্ত বাংলাদেশে তার অনেক প্রয়োজন। বেঁচে থাকলে দেশের জন্য আজ অনেক অবদান রাখতে পারতেন। নুরুল ইসলামের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত স্মরণসভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

দিবসটি উপলক্ষ্যে সোমবার রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে যুগান্তর ও যমুনা টেলিভিশনসহ যমুনা গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। এসব কর্মসূচির মধ্যে ছিল-বনানী কবরস্থানে প্রয়াত চেয়ারম্যানের কবর জিয়ারত, স্মরণসভা, প্রামাণ্যচিত্র উপস্থাপন, কুরআন খতম এবং মিলাদ ও বিশেষ দোয়া মাহফিল। এ সময় অভিভাবকের (নুরুল ইসলাম) রেখে যাওয়া কাজ সামনে এগিয়ে নেওয়ার দৃঢ়প্রত্যয় ব্যক্ত করা হয়। গভীর শোক, বিনম্র শ্রদ্ধা এবং হৃদয় নিংড়ানো ভালোবাসায় স্মরণ করা হয় দেশের শিল্প খাতের আপসহীন এই উদ্যোক্তাকে।

অনুষ্ঠানে যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতার স্বজন, সহকর্মীসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী অংশ নেন। ঢাকার বাইরেও দেশের বিভিন্ন স্থানে কুরআন খতম ও দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে নুরুল ইসলাম ও পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণে দোয়া করা হয়। অনুষ্ঠানগুলোতে তার সহকর্মী ও স্বজনরা বলেন, সাহসী এই শিল্পোদ্যোক্তা আজ সশরীরে বেঁচে নেই। কিন্তু রেখে গেছেন তার অমর সৃষ্টির বিশাল কর্মযজ্ঞ যমুনা গ্রুপের ৪২টি প্রতিষ্ঠান।

সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় যমুনা টেলিভিশনের কার্যালয়ে বিশেষ দোয়া মাহফিল ও স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন-যমুনা গ্রুপের বর্তমান চেয়ারম্যান ও যুগান্তরের প্রকাশক সালমা ইসলাম। তিনি বলেন, মানুষের কর্মসংস্থানই ছিল নুরুল ইসলামের জীবনের প্রধান লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যমুনা গ্রুপের পরিচালক-মনিকা ইসলাম, এসএম আবদুল ওয়াদুদ। এ সময় যুগান্তর সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার বলেন, নুরুল ইসলাম মানে মাথা নত না করা।

যুগান্তরের সাবেক সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সাইফুল আলম বলেন, নুরুল ইসলাম সব ক্ষেত্রে সফল ও সার্থক হয়েছেন। এটিই তার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন।

যমুনা টেলিভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফাহিম আহমেদ বলেন, যমুনা গ্রুপের নয়, নুরুল ইসলাম বাংলাদেশের সম্পদ। যে সাহসের বীজ তিনি বপন করে গেছেন, তা নিয়ে আমরা সবাই এগিয়ে চলছি।

স্মরণসভায় আরও বক্তব্য দেন-যুগান্তরের নির্বাহী সম্পাদক এনাম আবেদীন, যুগ্ম সম্পাদক বিএম জাহাঙ্গীর এবং যমুনা টেলিভিশনের হেড অব নিউজ তৌহিদুল ইসলাম।

এর আগে সকালে নুরুল ইসলামের পরিবারের পক্ষ থেকে কবর জিয়ারত, দোয়া ও মোনাজাত করেন যমুনা গ্রুপের বর্তমান চেয়ারম্যান সালমা ইসলাম। এ সময় সেখানে যমুনা গ্রপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শামীম ইসলামসহ যুগান্তর ও যমুনা টেলিভিশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, করোনা আক্রান্ত হয়ে ২০২০ সালের ১৩ জুলাই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নুরুল ইসলাম ইন্তেকাল করেন। পরদিন ১৪ জুলাই রাষ্ট্রীয় সম্মাননায় বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হন আপসহীন এই যোদ্ধা।

সোমবারের স্মরণসভায় সালমা ইসলাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধ শেষে নুরুল ইসলাম দেখলেন দেশ সম্পূর্ণ যুদ্ধবিধ্বস্ত। মানুষ ভালো নেই। দেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। ব্যবসা-বাণিজ্য, কর্মসংস্থান কোনো কিছুই ঠিক নেই। অনেকে অসহায় হয়ে পড়েছে। চারদিকে অশান্তি আর অস্থিরতা। নারীরা নিরাপদে বাইরে যেতে পারে না, ব্যাংক লুট হয়ে যাচ্ছে। সেই সময় তিনি দেশ পুনর্গঠনের কাজে এগিয়ে আসেন। তিনি উপলব্ধি করেছিলেন, দেশের সবচেয়ে বড় সংকট ভঙ্গুর অর্থনীতি। তাই ভাবতে শুরু করেন, কীভাবে এই দেশকে সুন্দর ও সমৃদ্ধিশালী করা যায়। এই চিন্তা থেকেই একের পর এক শিল্পকারখানা গড়ে তোলেন। মানুষের কর্মসংস্থানের বিষয়টি তিনি সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়েছিলেন।

সালমা ইসলাম বলেন, শুরুটা ছিল পুরান ঢাকার ওয়াইজঘাট থেকে। সেখানে তার বড় একটা দোকান ছিল। বৈদ্যুতিক পণ্যের এই দোকানটির নাম ছিল ‘যমুনা বিদ্যুৎ বিতান।’ এছাড়া ঢাকার রমনায় ছিল আরও কয়েকটি দোকান। কিন্তু তিনি বলতেন, ‘আমি দোকানদার হিসাবে পরিচিত হতে চাই না। শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে চাই।’ তার ভেতরে ছিল অদম্য জেদ, অসাধারণ মেধা, শক্তি ও আত্মবিশ্বাস। তিনি কখনো অন্যের ওপর নির্ভর করতে শেখেননি। নিজের যোগ্যতা, পরিশ্রম ও সাহসকে পুঁজি করেই এগিয়ে গেছেন। সালমা ইসলাম বলেন, একদিকে ব্যবসা-বাণিজ্য, অন্যদিকে আমাদের সংসার এই দুই পথ একসঙ্গে চলতে থাকে। পাশে থেকে দেখেছি, একজন মানুষ কত বড় স্বপ্ন নিয়ে বাঁচতে পারে। কত মেধা, শক্তি ও পরিকল্পনা নিয়ে তিনি প্রতিদিন কাজ করতেন। শিল্প সম্প্রসারণে ধীরে ধীরে দোকানগুলো বিক্রি করে দিলেন। এরপর জয়দেবপুরে বিশাল জায়গা কিনে যমুনা ইন্ডাস্ট্রিজ প্রতিষ্ঠা করলেন। সাতটি ফ্যাক্টরি দিয়ে যাত্রা শুরু। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একের পর এক শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুললেন।

সালমা ইসলাম আরও বলেন, পরবর্তীকালে তিনি ভাবলেন, সাধারণ মানুষের কথা শোনারও তো কেউ নেই। তাদের অনেক কথা থাকে, অনেক কষ্ট থাকে, কিন্তু সেগুলো বলবে কার কাছে? সেই চিন্তা থেকেই তিনি প্রথমে দৈনিক যুগান্তর এবং পরে যমুনা টেলিভিশন প্রতিষ্ঠা করেন।

সালমা ইসলাম বলেন, ‘আজ তিনি আমাদের মাঝে নেই। কিন্তু আমি তা অনুভব করতে চাই না। আমি ভাবি, এখনো তিনি আমার পাশে আছেন। আমি প্রায়ই তার কবরের কাছে গিয়ে বলি, ‘তোমাকে একদিন জিজ্ঞেস করেছিলাম তুমি আমার আগে চলে গেলে আমার কী হবে?’ তখন তিনি কোনো উত্তর দেননি। আজ আমি নিজেই সেই উত্তর দিই। তোমার ছেলে-মেয়েরা আমাকে অনেক ভালো রেখেছে।’ একজন স্ত্রী হিসাবে যে ভয় প্রতিটি নারীর মনে থাকে, স্বামী আগে চলে গেলে কী হবে! কিন্তু আমার সন্তানরা সেই ভয় দূর করে দিয়েছে। তারা আমাকে বুঝিয়ে দিয়েছে, তারা কতটা দায়িত্বশীল, তাদের মাকে কতটা ভালোবাসতে জানে। তুমি জীবিত থাকতে আমি হয়তো বুঝতে পারিনি, তোমার সন্তানরা এত ভালো মানুষ হয়ে উঠবে।

আবদুল হাই শিকদার বলেন, রবীন্দ্রনাথের কোনো এক জন্মদিনে শরৎ চন্দ্রকে মানপত্র লিখতে বলা হয়েছিল। তিনি এক লাইনে লিখেছিলেন, ‘কবিগুরু তোমার দিকে চাহিয়া আমাদের বিস্ময়ের সীমা নেই।’ আমিও সেভাবে বলছি, নুরুল ইসলামের দিকে তাকিয়ে আমার বিস্ময়ের সীমা নেই। তিনি ছিলেন অসাধারণ এবং অনন্য। বাংলাদেশ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য যারা জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছিলেন, তিনি তাদেরই একজন। যুগান্তর সম্পাদক বলেন, মুক্তিযুদ্ধ করে তিনি ক্ষান্ত দিলেও তার নাম ইতিহাসে লেখা থাকত। কিন্তু নুরুল ইসলাম তা করেননি। দেশের দারিদ্র্য বিমোচন এবং বেকারত্ব দূরীকরণের চিন্তা ওই সময় তাকে ঘুমাতে দেয়নি। মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য তিনি একে একে শিল্পপ্রতিষ্ঠান তৈরি করেছেন। গড়ে তুলেছেন যমুনা গ্রুপের মতো বিশাল শিল্পসম্রাজ্য।

আবদুল হাই শিকদার বলেন, ‘আমি অবাক হই, মাত্র ৭৪ বছরের জীবন। এর মধ্যে অর্ধেক সময় চলে গেছে রণাঙ্গনে। বাকি সময়ের মধ্যে এতকিছু করলেন কীভাবে। এটি আমার জন্য বিস্ময়কর। মনীষী আবুল ফজল একুশে ফেব্রুয়ারি নিয়ে লিখেছেন, ‘একুশ মানে মাথা নত না করা।’ একইভাবে গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার পর আমারও বলতে হয়, ‘নুরুল ইসলাম মানে মাথা নত না করা।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশে একুশে পদক আছে, স্বাধীনতা পদক আছে। কিন্তু আমার কাছে অবাক লাগে, যারা শিল্পপ্রতিষ্ঠান তৈরি করে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান করেছেন, যারা অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করে দেশের মেরুদণ্ড শক্ত করেছেন, তাদের এ ধরনের রাষ্ট্রীয় পদক দেওয়া হয় না। আমি সরকারকে বলব-নুরুল ইসলামের মতো গুণীকে সম্মান করেন।

সাইফুল আলম বলেন, নুরুল ইসলামের বিস্তৃতি সীমাহীন। কোনো সীমাবদ্ধতার মধ্যে আমরা তাকে আবদ্ধ করতে পারি না। তার সাহসিকতা, সততা, পরিশ্রম, বিশ্বাস ও দর্শন যে কথাই বলি। সব কর্ম ও জীবনাচারের মধ্য দিয়ে প্রস্ফুটিত হয়েছে। তিনি বলেন, নুরুল ইসলাম বাইরে যেমন শ্রম দিয়েছেন, প্রতিষ্ঠান গড়েছেন, পরিবারের ক্ষেত্রেও তিনি অত্যন্ত নিষ্ঠাবান। তিনি একজন স্বামী হিসাবে, পিতা হিসাবে এবং পরিবারের অভিভাবক হিসাবে সার্থক। এই পরিবারের মধ্যে যে বন্ধন, ভালোবাসা এবং মায়ার জায়গা তৈরি করেছেন, এটি এই গ্রুপকে দেশে অত্যন্ত শক্তিশালী হিসাবে প্রতিষ্ঠা করেছে।

ফাহিম আহমেদ বলেন, নুরুল ইসলাম যে সাহস দেখিয়ে গেছেন, সাহসের বীজ রোপণ করে গেছেন, আমি এখনো সেই সাহস নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছি। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টেও নুরুল ইসলামের রেখে যাওয়া সাহসে এগিয়েছি। উনি যে সাহস সঞ্চারিত করে গেছেন, সেটা আমরা এখনো বয়ে বেড়াই। তিনি বলেন, যমুনা টেলিভিশন থেকে আমাকে বের করে দেওয়ার জন্য সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থা থেকে প্রয়াত চেয়ারম্যানকে অনেক চাপ দিয়েছিল। কিন্তু তিনি মাথা নত করেননি। যুগান্তরেও এ রকম অনেক উদাহরণ আছে।

ফাহিমদ আহমেদ বলেন, উনি শুধু যমুনা গ্রুপের সম্পদ নন, বাংলাদেশের সম্পদ। এজন্য আমি মনে করি, আমাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত জীবনে ওনার মতো একজন মানুষকে অনুসরণ করা উচিত।

এনাম আবেদীন বলেন, আমার দেখা সবচেয়ে সাহসী মানুষের মধ্যে নুরুল ইসলাম অন্যতম। তার কয়েকটি গুণের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল-সাহস, মেধা, পরিশ্রম করার সক্ষমতা এবং দূরদৃষ্টি। কোনো কিছুই তাকে ভয়ে কাবু করতে পারত না। এমন কোনো বিষয় নেই যা তিনি জানতেন না। মানুষের চরিত্র বিশ্লেষণ করতে পারতেন। বলে দিতেন লোকটি কেমন এবং যা বলতেন সেটিই ছিল সত্য।

এনাম আবেদীন আরও বলেন, নুরুল ইসলাম বাংলাদেশের শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তন দেখতে চেয়েছিলেন। আজ বেঁচে থাকলে এই পরিবর্তন দেখে যেতে পারতেন। বাংলাদেশে অনেক ব্যবসায়ী আছেন, যারা বিদেশে টাকা পাচার করেছেন। আজ তাদের কেউ পালিয়ে আছেন। কেউ আপস করছেন। কিন্তু নুরুল ইসলাম থাকলে তিনি আগের মতোই মাথা উঁচু করে চলতেন। তিনি যা করেছেন, সব এক নম্বর। অর্থাৎ ওনার প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই শীর্ষস্থান দখল করে আছে।

বিএম জাহাঙ্গীর বলেন, আমার ৫৮ বছরের জীবনে যত সাফল্য, আজকে কাজ করার ক্ষেত্রে যে মানসিক শক্তি, সবকিছুর পেছনে আমাদের প্রয়াত চেয়ারম্যানের অবদান সবচেয়ে বেশি। এজন্য প্রতি মুহূর্তেই এই মানুষটাকে অন্তর থেকে অনুভব করি। যুগান্তরের দীর্ঘ পথচলায় এই গুণী মানুষটার সঙ্গে একান্তভাবে ১২ বছর কাটানোর সৌভাগ্য হয়েছিল। এ কারণে গৌরববোধ করি। তিনি বলেন, ১৩ জুলাই বছরের একটি দিন, আমরা যা করছি তা আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। কিন্তু তার যত ভালো কাজ, তা যদি আমরা বাস্তবে প্রতিপালন না করি, তাহলে বছরে এই একদিনের জন্য তাকে এভাবে স্মরণ করে কোনো লাভ হবে না।

তৌহিদুল ইসলাম বলেন, নুরুল ইসলাম অনেক সরল মানুষ ছিলেন। তিনি সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলতেন। কিন্তু এই সাদা-কালোর মাঝে অনেক ধূসর এরিয়া রয়েছে, তা নিয়ে তিনি মাথা ঘামাতেন না। তিনি ছিলেন ইউনিক। নিজে যা ভালো মনে করতেন, সেটিকে সাকসেস করে ছাড়তেন। এজন্য তিনি ছিলেন সবার থেকে ব্যতিক্রম।

যমুনা গ্রুপের কর্মসূচি : মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে যমুনা গ্রুপ পৃথক কর্মসূচির আয়োজন করে। দুপুরে যমুনা গ্রুপের প্রধান কার্যালয়ে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন যমুনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. শামীম ইসলাম, গ্রুপ পরিচালক এসএম আবদুল ওয়াদুদ ও যুমার আয়াত শেখ এবং যমুনা গ্রুপের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

এ সময় এসএম ওয়াদুদ বলেন, পরিবারের পক্ষ থেকে বলতে চাই, বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম দেশের অর্থনীতির জন্য যে অবদান রেখেছেন তা অনন্য। আজকের এই দিনেই শুধু আমরা তাকে স্মরণ করব, এমন নয়। আমাদের কাজের মধ্য দিয়ে তিনি বেঁচে থাকবেন। তিনি যে কাজগুলো পছন্দ করতেন, সবাই যেন সব সময় সেই কাজগুলোই করি।

স্মরণসভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের জীবন, আদর্শ ও কর্ম নিয়ে স্মৃতিচারণা করে বক্তৃতা করেন যমুনা গ্রুপের পরিচালক (বাণিজ্যিক) এবিএম শামছুল হাসান, পরিচালক (ট্যাক্সেশন) মো. আশরাফ আলী, সিনিয়র জিএম (লোকাল পারচেজ) মো. মুজিবুর রহমান প্রমুখ।