মুলাদীতে হামলায় আহত তরুণ মিলন হাজীর (২৩) মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে তিনটি বাড়িতে হামলা ও লুটপাটের ঘটনার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন তিনি। বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (পিজি) হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। মিলনের মৃত্যুর সংবাদে এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। নিহত মিলন হাজী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের বানীমর্দন গ্রামের মৃত আব্দুর রহিম হাজীর ছেলে। ৩০ মে বিকালে তুচ্ছ ঘটনায় প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত হয়েছিলেন। ওই ঘটনায় মিলনের ভাই জালালাবাদ লক্ষ্মীপুর গ্রামের আবু তাহের, রোমান, রাজু, রনি, রাব্বীসহ নয়জনের নাম উল্লেখসহ ১৮ জনকে আসামি করে থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। পরে ৩ জুন দুপুরে মিলনের মৃত্যুর গুজবে তিনটি বাড়ির সাতটি ঘরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট হয়। জানা যায়, ২৯ মে ঈদের পরদিন বিকালে মিলন হাজীর সঙ্গে পার্শ্ববর্তী চরকালেখান ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের রাজু ও আবু তাহেরসহ ৫-৬ জনের কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে আবু তাহের, রোমান, রাজুর নেতৃত্বে ২০-২৫ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। ওই হামলায় মিলন গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে তাকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং পরে পিজি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিসাধীন অবস্থায় প্রায় ২৬ দিন পর তিনি মারা যান। এদিকে মিলনের মৃত্যুর আগেই ৩ জুন দুপুরে এলাকায় তার ‘মৃত্যুর গুজব’ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় শুকুর হাজী, মোতালেব ও সুমন সরদারের নেতৃত্বে ৪০-৪৫ জন লোক রামদা, হকিস্টিক, লোহার রড ও লাঠিসোটা নিয়ে লক্ষ্মীপুর গ্রামে হামলা চালায়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দাবি, হামলাকারীরা ঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ মূল্যবান মালপত্র লুট করে এবং ৩টি বাড়ি থেকে সাতটি গরু ও ১২টি ছাগল ছিনিয়ে নিয়ে যায়। ওসি খন্দকার সোহেল রানা বলেন, এলাকায় উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ অবস্থান করছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।