ফ্যাশনের জগতে পরিবর্তন যেন নিত্যদিনের ঘটনা। একসময় নাকে গয়না বলতে বেশিরভাগ মানুষের মনে ভেসে উঠত নাকফুল বা নথের ছবি। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলেছে রুচি, বদলেছে স্টাইলের সংজ্ঞাও। এখন তরুণ প্রজন্মের ফ্যাশনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে সেপ্টাম রিং-নাকের মাঝের অংশে পরা ছোট একটি রিং। আকারে ছোট হলেও এটি আজ বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় ফ্যাশন অ্যাকসেসরিতে পরিণত হয়েছে।
মিনিমালিস্ট ফ্যাশনের এই সময়ে এমন গয়নার চাহিদাই বেশি, যা খুব বেশি জাঁকজমকপূর্ণ নয়, কিন্তু সহজেই ব্যক্তিত্ব ফুটিয়ে তোলে। সেপ্টাম রিং ঠিক তেমনই একটি অনুষঙ্গ। এটি শুধু পশ্চিমা ফ্যাশনেই নয়, দক্ষিণ এশিয়ার তরুণদের মধ্যেও দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। শাড়ি, কুর্তি, ফিউশন পোশাক কিংবা আধুনিক ওয়েস্টার্ন আউটফিটের সঙ্গেই এটি অনায়াসে মানিয়ে যায়।
বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন সেলিব্রিটি, মডেল, সংগীতশিল্পী এবং সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের কারণে সেপ্টাম রিংয়ের জনপ্রিয়তা আরও বেড়েছে।
শুধু ফ্যাশন নয়, ব্যক্তিত্বেরও প্রকাশ
সেপ্টাম রিং এখন আর কেবল একটি অলংকার নয়। অনেকের কাছে এটি নিজের পরিচয়, আত্মবিশ্বাস এবং ব্যক্তিত্ব প্রকাশের একটি মাধ্যম। কেউ এটি পরেন সাহসী স্টাইল দেখানোর জন্য, কেউ আবার নিজের স্বাধীন চিন্তা ও রুচির বহিঃপ্রকাশ হিসেবে।
ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান প্রজন্ম এমন অনুষঙ্গই বেশি পছন্দ করছে, যা প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে নিজস্ব স্টাইল তৈরি করতে সাহায্য করে। সেই কারণেই সেপ্টাম রিংয়ের জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে।
ঐতিহ্য থেকে আধুনিকতায়
দক্ষিণ এশিয়ায় নাকে গয়না পরার ইতিহাস বহু পুরোনো। অনেক অঞ্চলে নাকফুল বা নথ বিবাহিত নারীর পরিচয়ের অংশ হিসেবে বিবেচিত হতো। আবার কিছু আদিবাসী ও উপজাতীয় সম্প্রদায়ের নারীরা বহু আগে থেকেই সেপ্টাম রিং ব্যবহার করতেন।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই অলংকারের অর্থও বদলেছে। এখন শহরের তরুণীরা এটিকে আর বৈবাহিক বা সামাজিক প্রতীক হিসেবে নয়, বরং একটি স্টাইলিশ ফ্যাশন অ্যাকসেসরি হিসেবে গ্রহণ করছেন। অতীতের ঐতিহ্যকে আধুনিক রুচির সঙ্গে মিলিয়ে নতুনভাবে উপস্থাপন করার একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে সেপ্টাম রিং।
ভুল ধারণাও রয়েছে
ফ্যাশন দুনিয়ায় জনপ্রিয় হলেও বাস্তব জীবনে সেপ্টাম রিং নিয়ে এখনো নানা ধরনের ভুল ধারণা রয়েছে। অনেকেই এটিকে অপ্রচলিত বা বিদ্রোহী স্টাইল হিসেবে দেখেন। ফলে অনেক নারী বাইরে বের হলে কৌতূহলী দৃষ্টি, অপ্রয়োজনীয় মন্তব্য কিংবা ব্যক্তিগত প্রশ্নের মুখোমুখি হন।
তবে ধীরে ধীরে এই মানসিকতার পরিবর্তন হচ্ছে। যেমন একসময় কানের একাধিক ছিদ্র বা ট্যাটু নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা ধারণা ছিল, তেমনি এখন সেপ্টাম রিংও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক ফ্যাশন ট্রেন্ড হিসেবে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে।
শুধু নারীদের নয়
একসময় সেপ্টাম রিং মূলত নারীদের অলংকার হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু এখন সেই ধারণাও বদলে গেছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পুরুষরাও এটি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে পরছেন। বিশেষ করে সংগীতশিল্পী, মডেল, শিল্পী এবং সৃজনশীল পেশার অনেক মানুষ নিজেদের স্টাইলের অংশ হিসেবে সেপ্টাম রিং ব্যবহার করছেন।
এতে বোঝা যায়, বর্তমান ফ্যাশনে এই অনুষঙ্গটি ধীরে ধীরে লিঙ্গ-নিরপেক্ষ পরিচয় পাচ্ছে। ফ্যাশনের ভাষায় এটি এখন নারী-পুরুষ উভয়ের জন্যই সমানভাবে গ্রহণযোগ্য একটি স্টাইল স্টেটমেন্ট।
আরও পড়ুন
সাদার সরল সাজেই নজর কাড়লেন প্রভা
ছোট গয়না, বড় বার্তা
সেপ্টাম রিংয়ের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো এর সরলতা। এটি খুব ছোট একটি গয়না হলেও পুরো লুক বদলে দিতে পারে। অনেকের কাছে এটি আত্মবিশ্বাসের প্রতীক, কারও কাছে ব্যক্তিত্বের প্রকাশ, আবার কারও কাছে শুধুই পছন্দের একটি ফ্যাশন অ্যাকসেসরি।
আরও পড়ুন
সামান্য যত্নেই বছরের পর বছর নতুন থাকবে প্রিয় সিল্কের শাড়ি
ফ্যাশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিজের স্বাচ্ছন্দ্য ও আত্মবিশ্বাস। যদি কোনো স্টাইল আপনাকে স্বাচ্ছন্দ্য দেয় এবং নিজের পরিচয় প্রকাশে সাহায্য করে, তাহলে সেটিই আপনার জন্য ভালো। আর সেই কারণেই এই সেপ্টাম রিং আবার আধুনিক ফ্যাশনে নতুনমাত্রা যোগ করেছে।
সূত্র: ফ্যাশন ম্যাগাজিন, কসমোপলিটন, ভোগ টিন
এসএকেওয়াই








