বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মাদ (সা.) সিজদায় অবনত হয়ে তাসবিহ পাঠ করতেন, ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা’। এই তাসবিহটির অন্তর্নিহিত অর্থ অত্যন্ত গভীর ও তাৎপর্যপূর্ণ। ‘সুবহানা রাব্বিয়াল আ’লা’ অর্থ হলো—আমি আমার সেই রবের পবিত্রতা ঘোষণা করছি যিনি ‘আল-আ’লা’ অর্থাৎ সর্বোচ্চ, সবচেয়ে মহান এবং যার ওপরে আর কেউ হতে পারে না।

আরবিতে ‘আল-আ’লা’ শব্দের অর্থ হলো সবচেয়ে উঁচু বা সর্বোচ্চ। এর ঠিক বিপরীত শব্দ হলো ‘আল-আসফাল’, যার অর্থ সবচেয়ে নিচু বা সর্বনিম্ন। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা মুনাফিকদের শাস্তির বর্ণনা দিতে গিয়ে বলেছেন, তারা জাহান্নামের আসফাল বা সর্বনিম্ন স্তরে অবস্থান করবে। সুতরাং, সবচেয়ে নিচু অবস্থানকে ‘আসফাল’ এবং সবচেয়ে উঁচু অবস্থানকে ‘আ’লা’ বলা হয়।

আরও পড়ুন

হাদিস থেকে শিক্ষা / নামাজে যে সাত অঙ্গের ওপর সিজদা করা ফরজ

নামাজে যখন আমরা সেজদায় গিয়ে আল্লাহকে ‘আল-আ’লা’ বা সর্বোচ্চ বলে ঘোষণা করি, তখন আমাদের নিজেদের অবস্থানটি আসলে কোথায় থাকে? সিজদা হলো এমন একটি অবস্থা যেখানে মানুষ তার দেহের সবচেয়ে সম্মানিত ও দামি অঙ্গ—কপাল ও নাককে মাটিতে মিলিয়ে দেয়। এর মাধ্যমে মানুষ তার ভেতরের সমস্ত অহংকার, দম্ভ এবং আত্মতুষ্টিকে সম্পূর্ণভাবে ধূলিসাৎ করে আল্লাহর দরবারে নিজের সর্বোচ্চ আনুগত্য, বিনয় ও দাসত্ব প্রদর্শন করে। সিজদাবনত অবস্থার মানুষের বিনয়ের চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশ।

নামাজ শুরু হয় ‘আল্লাহু আকবার’ বলে আল্লাহর মহত্ব ঘোষণার মাধ্যমে। এরপর রুকুতে আমরা মাথা নিচু করি, এরপর সিজদায় গিয়ে নিজের মাথাকে একেবারে মাটির সাথে মিশিয়ে দিই।

এর অর্থ হলো, শারীরিক ও মানসিকভাবে আমরা তখন চলে যাই ‘আসফাল’ বা সবচেয়ে নিচু অবস্থানে। আর নিজের অস্তিত্বকে সবচেয়ে নিচু অবস্থানে নিয়ে আমরা ঘোষণা করি—‘সুবহানা রাব্বিয়াল আলা’। অর্থাৎ, হে প্রতিপালক! আমি নিজেকে এর চেয়ে বেশি তুচ্ছ, নগণ্য বা ছোট করার কোনো উপায় জানি না; আমি আপনার সামনে নিজেকে সম্পূর্ণ উজাড় করে দিলাম। আমি সবচেয়ে ক্ষুদ্র হয়ে আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি, যিনি সর্বোচ্চ ও সবচেয়ে মহান।

আরও পড়ুন

সিজদা ও রুকুর তাসবিহ

সূত্র: মিজানুর রহমান আজহারীর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত ওয়াজের ভিডিও থেকে লেখাটি তৈরি করা হয়েছে।

ওএফএফ