স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এখনো ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তারিখ ঘোষণা করা না হলেও বসে নেই সম্ভাব্য প্রার্থীরা। জয়পুরহাট সদর উপজেলার ইউনিয়নগুলোয় ইতোমধ্যে নির্বাচনি হাওয়া বইতে শুরু করেছে। নিজ নিজ এলাকায় প্রার্থী হওয়ার বার্তা নিয়ে মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন উৎসাহী প্রার্থীরা। গ্রাম-পাড়া এবং এলাকার হাটবাজার, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বাড়ির বৈঠকখানা-সবখানেই এখন নির্বাচনি আলোচনা। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নানা কৌশলে ভোটারদের কাছে নিজেদের প্রার্থিতার কথা জানান দিচ্ছেন। ফলে পথে-ঘাটে ও আড্ডায় এখন প্রধান অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে আসন্ন ইউপি নির্বাচন ও প্রার্থীদের যোগ্যতা-অযোগ্যতার সমীকরণ। শুধু তাই নয়, ইতোমধ্যে জেলার পৌর এলাকায় আসন্ন পৌরসভার নির্বাচনেও সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থীরা একই কৌশলে জানান দিচ্ছেন তাদের প্রার্থী হওয়ার আকাঙ্ক্ষা। তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, জয়পুরহাট সদর উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এখন পর্যন্ত বিএনপি ও এর অঙ্গ-সংগঠনের বেশ কয়েকজন নেতা নিজেদের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। জয়পুরহাট সদর উপজেলার ইউনিয়নভিত্তিক সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় মোহাম্মদাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যানপ্রার্থী হিসাবে এ মুহূর্তে যে ৬ জনের নাম শোনা যাচ্ছে তারা হলেন-ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল আলিম মন্ডল, সহসভাপতি দেলোয়ার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক রেজাউল ইসলাম, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হামিদ দুলাল, জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সভাপতি আনিসুর রহমান এবং জেলা শ্রমিক দলের সহসভাপতি আইয়ুব আলী। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে ধলাহার ইউনিয়নের সম্ভাব্য যে ৩ জন চেয়ারম্যানপ্রার্থীর কথা উচ্চারিত হচ্ছে, তারা হলেন জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান তোজাম্মেল হক, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম (সাবু মাস্টার) এবং ইউনিয়ন কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান কাজল। ভাদসা ইউনিয়নের সম্ভাব্য ৫ প্রার্থীর মধ্যে রয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফরিদ উদ্দিন, বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য শাহ আলম, ইউনিয়ন বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ফারুক হোসেন, ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য এমদাদুল হক ও রফিকুল ইসলাম। দোগাছি ইউনিয়নে এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী একজনের নামই শোনা যাচ্ছে। তিনি হলেন জয়পুরহাট সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক। পুরানাপৈল ইউনিয়নে যে দুজন প্রার্থীর কথা শোনা যাচ্ছে তারা হলেন জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আলমগীর হোসেন এবং বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন বিএনপি সদস্য আরমান আলী। চকবরকত ইউনিয়নের সম্ভাব্য দুজন প্রার্থী হলেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন ও সাংগঠনিক সম্পাদক ফরিদ হোসেন। জামালপুর ইউনিয়নে ৩ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তারা হলেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান মোফাজ্জল হোসেন, সদর উপজেলা কৃষক দলের সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আব্দুল আলিম এবং ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন দিপু। বম্বু ইউনিয়নে শুনতে পাওয়া যাচ্ছে দুজন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম। তারা হলেন জয়পুরহাট সদর থানা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ফিরোজ হোসেন মন্ডল। এছাড়া আমদই ইউনিয়নে এখন পর্যন্ত সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসাবে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি গোলাম রব্বানীর নাম শোনা যাচ্ছে সর্বত্র। তবে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা হওয়ামাত্র বিভিন্ন ইউনিয়নে আরও একাধিক প্রার্থী যে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাঠে নামবেন, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যায়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জয়পুরহাট জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধান এবং জেলা জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের সদস্য সচিব মঞ্জুরে মওলা পলাশ জানান, ‘আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি এবং এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের একাধিক নেতা চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার আগ্রহ প্রকাশ করে তারা নিজেরাই ব্যক্তিগতভাবে ঘোষণা দিয়েছেন। দলগতভাবে এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলে দলের হাইকমান্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী যোগ্য প্রার্থীদের মনোনয়ন বা সমর্থনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’