দীর্ঘ চিকিৎসার পর সুন্দরবনে শিকারিদের ফাঁদে আহত হওয়া সেই বাঘিনী ফিরল তারা প্রাকৃতিক আবাসে। আজ রোববার দুপুর ১টা ৫ মিনিটে সুন্দরবন পূর্ব বনবিভাগের আন্ধারমানিক ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্রসংলগ্ন বনাঞ্চলে বাঘিনীটিকে অবমুক্ত করা হয়। বন বিভাগ জানিয়েছে, অন্তত এক বছর ধরে ওই এলাকার চারপাশে বাঘিনীর গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ৩ জানুয়ারি সুন্দরবনের শরকির খালসংলগ্ন বনাঞ্চলে হরিণশিকারিদের পাতা ফাঁদে আটকা পড়ে বাঘিনীটি গুরুতর জখম হয়। পরদিন ৪ জানুয়ারি বন বিভাগের সদস্যরা ট্রাঙ্কুইলাইজার গান ব্যবহারের মাধ্যমে অচেতন করে বাঘিনীটিকে উদ্ধার করেন।

পরে সেটিকে খুলনায় বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের পুনর্বাসনকেন্দ্রে নেওয়া হয়। সেখানে ৬ মাসেরও বেশি সময় প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিবিড় পরিচর্যার মাধ্যমে বাঘিনীটি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠে। চিকিৎসা শেষে আজ সেটিকে আবার সুন্দরবনের বনাঞ্চলে ছেড়ে দেওয়া হয়।

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, শিকারিদের রশির ফাঁদে আটকে পড়ার পর টানাটানিতে বাঘটির সামনের বাঁ পায়ে তিন ইঞ্চি পরিমাণ চামড়া, মাংসপেশি ও শিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। সেখানে পচনও ধরেছিল। পরে পাঁচ সদস্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলের নিয়মিত চিকিৎসায় বাঘটি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে স্বাভাবিক চেহারায় ফিরেছে।

ডিএফও রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, ` গত কয়েক মাসে ৯ থেকে ১০ বছর বয়সী বাঘটির ওজন বেড়েছে, ক্ষিপ্রতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় দেখা গেছে, এখন স্ত্রী বাঘটি শিকার ধরে খেতে সক্ষম।'

ডিএফও রেজাউল করিম চৌধুরী আরও জানান, সম্প্রতি বাঘ গবেষক ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে বন বিভাগের আয়োজিত এক সভায় বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে বাঘটিকে যেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল, সেই এলাকার বনেই অবমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, খুলনার বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) নির্মল কুমার পাল জানান, বাঘটিকে সুন্দরবনে অবমুক্ত করার জন্য অভিজ্ঞ ও প্রখ্যাত বন্যপ্রাণী চিকিৎসক, বাঘ বিশেষজ্ঞ এবং বন বিভাগের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে চারটি দল গঠন করা হয়। এই দলগুলোই আজ বাঘিনীকে সুন্দরবনে ছেড়ে দেওয়ার পুরো কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করেছে।

নির্মল কুমার পাল বলেন, খুলনা থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় মেডিকেল দল বাঘটির স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে। এছাড়া গত কয়েকদিন ধরে বাঘের মানসিক ও আচরণগত সক্ষমতা পরীক্ষার জন্য বাঘ বিশেষজ্ঞ দল কাজ করে। বাঘটিকে ধরা, অবমুক্তকরণের স্থানে পরিবহন এবং অবমুক্ত করার জন্য একটি বিশেষায়িত দল কাজ করেছে। বাঘের নিরাপত্তা ও বনের পার্শ্ববর্তী জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অবমুক্ত-পরবর্তী নজরদারির জন্যও একটি পর্যবেক্ষণ দল গঠন করা হয়েছে।

বন বিভাগ জানিয়েছে, বাঘিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণের জন্য সুন্দরবনে ৮ কিলোমিটারজুড়ে ২০টি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এই দল অন্তত এক বছর ধরে বাঘ অবমুক্তকরণ এলাকার চারপাশে বাঘটির গতিবিধি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে।