সরকারি চাকরিতে কোটা বাতিলের দাবির সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন শিক্ষার্থীরা। তাদের আন্দোলন দিনদিন কঠোর হতে থাকে। ২০২৪ সালের ৫ জুলাই কোটাব্যবস্থা বাতিল করে ২০১৮ সালে জারি করা পরিপত্র পুনর্বহালসহ চার দাবিতে আন্দোলনে নামেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। রাজধানী ও রাজধানীর বাইরে কিছু কিছু জায়গায় সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন করতে দেখা যায়। এছাড়া অনলাইনে কোটাবিরোধী প্রচারণা তীব্র হতে থাকে। তারা দৃঢ়ভাবে বলতে শুরু করেন কোটা বাতিল না হলে ফিরে যাবেন না।

কোটাবিরোধী (বৈষম্য) আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাসনাত আবদুল্লাহ এদিন যুগান্তরকে বলেছিলেন, আমরা আজ (শুক্রবার) অনলাইনে কোটাবিরোধী প্রচারণা চালিয়েছি। এছাড়া আন্দোলনের হ্যাশট্যাগ ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা করেছি। বিভিন্ন আবাসিক হল এবং বিভাগের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যোগদানের যৌক্তিকতা সম্পর্কে বোঝানো হয়েছে। পরদিন শনিবার বিকাল ৩টায় আমরা সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিক্ষোভ সমাবেশ করব। সর্বাত্মক ছাত্র ধর্মঘটের বিষয়ে তিনি বলেছিলেন, ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে সর্বাত্মক ছাত্র ধর্মঘটে আমরা ব্যাপক সমর্থন পাচ্ছি। শুক্রবার সন্ধ্যা পর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের ৪৭টি ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

আন্দোলনে সাদা দলের সমর্থন : ৫ জুলাই আন্দোলনে সমর্থন জানায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপি ও জামায়াতপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। সাদা দলের আহ্বায়ক অধ্যাপক মো. লুৎফর রহমান, যুগ্ম-আহ্বায়ক অধ্যাপক মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান এবং অধ্যাপক আবদুস সালাম স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১৮ সালে জারি করা সরকারি পরিপত্রের অংশবিশেষ অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ে আমরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে কোটাব্যবস্থা পুনর্বহালের প্রতিবাদে শিক্ষার্থী ও চাকরিপ্রত্যাশীদের চলমান আন্দোলনের প্রতি আমরা সমর্থন জানাচ্ছি। ২০১৮ সালের পরিপত্রের অংশবিশেষ বাতিল করে দেওয়া রায়ের প্রতিবাদে পুনরায় চাকরিপ্রত্যাশী ও শিক্ষার্থীরা যে আন্দোলন শুরু করেছেন, আমরা মনে করি তা ন্যায্য ও যৌক্তিক। কারণ, কোটা কখনোই মেধার বিকল্প হতে পারে না।

চবি শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ : চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীরা প্রায় এক ঘণ্টা চট্টগ্রাম শহরের দুই নম্বর গেটসংলগ্ন সড়ক অবরোধ করে রেখেছিলেন। এর আগে বেলা ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। এরপর শাটল ট্রেনে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে শহরে যান আন্দোলনকারীরা। ষোলশহর রেলস্টেশনে জড়ো হয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে অবস্থান নেন তারা। এরও আগে বুধ ও বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি-রাঙামাটি মহাসড়ক অবরোধ করেন চবি শিক্ষার্থীরা।

জাবি : ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে মানববন্ধন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা। এর আগে বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি শহীদ মিনার প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে গিয়ে শেষ হয়।

বশেমুরবিপ্রবি : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বশেমুরবিপ্রবি) শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসংলগ্ন ঘোনাপাড়া-গোপালগঞ্জ সড়কে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী আহাদুল ইসলাম বলেছিলেন, আমাদের দাবি না মানা পর্যন্ত এ আন্দোলন চালিয়ে যাব। আমরা চাই কোটামুক্ত মেধাবীদের নেতৃত্বে বাংলাদেশ গড়ে উঠুক।