ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে খালের ওপর থাকা ঘাটলায় দোকান বরাদ্দ পেতে আবেদনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে এলাকায় বেশ তোলপাড় শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে বরাদ্দ পাওয়ার ক্ষেত্রে তিনি এক ধাপ এগিয়েছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদর উপজেলার মাছিহাদতা ইউনিয়নের চিনাইর বাজারের পাশে খালের ওপর ঘাটলায় দোকান বরাদ্দের আবেদন করেছেন ওই ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ছায়েদুল হক। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে করা এক আবেদনে তিনি নিজেকে বয়স্ক, প্রবাস-ফেরত অসহায় মানুষ হিসেবে উল্লেখ করেন। এখানে দোকান নির্মাণ করে জীবিকা নির্বাহ করতে পারবেন বলে আবেদনে লিখেছেন।
তবে বিএনপির ওই নেতা স্থানীয়ভাবে বেশ ধনাঢ্য ব্যক্তি হিসেবেই পরিচিত। নিজ গ্রাম চিনাইরেই তার তিনতলা একটি বাড়ি রয়েছে। এছাড়া বাজারে আরও একাধিক দোকানভিটা রয়েছে। বেশ স্বাচ্ছন্দ্যেই তিনি চলতে পারেন বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এদিকে ভূমি অফিস থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, উল্লিখিত দাগের ভূমি খাল হিসেবে আছে। আবেদনকারীর দোকানভিটির স্থানটি বর্তমানে খালি অবস্থায় খালের পশ্চিম পাড়ে চিনাইর টু চাপুইর সরকারি রাস্তা সংলগ্ন পূর্ব পাশে পাকা ঘাটলা হিসেবে নেট দিয়ে তালাবদ্ধ হিসেবে আছে। আবেদিত অংশটি পেরিফেরিভুক্ত নয়। আবেদনকারী মাছিহাতা ইউনিয়নের স্থায়ী বাসিন্দা এবং প্রকৃত ব্যবসায়ী। আবেদনকারী একজন বয়স্ক এবং প্রবাস-ফেরত অসহায় মানুষ। আবেদনকারীকে পরিবার পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহের স্বার্থে সরকারি ১নং খাস খাতিয়ানভুক্ত উল্লিখিত দাগে বন্দোবস্ত প্রদানের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে।
মাছিহাতা ইউনিয়নের আটলা ভূমি অফিসের নায়েব মো. আবুল খায়ের এ বিষয়ে বলেন, ‘আবেদন অনুযায়ী তদন্ত এলে আমরা প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।’
এসব বিষয়ে মাছিহাতা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. ছায়েদুল হক মোবাইল ফোনে বলেন, ‘খালের পাড়ের ঘাটলাটি পরিত্যক্ত। কোনো কাজে আসছে না। তাই এখানে দোকান করার জন্য আবেদন করেছি। আর অসহায় বলতে এই দুনিয়ার সবাই অসহায়। এই বাজারে আমার আরও দোকান আছে। আমি সব প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই আবেদন করেছি।’
আবুল হাসনাত মো. রাফি/এফএ/এএসএম








