অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও দৃঢ় মনোবল সঙ্গী করে ডান পা দিয়ে লিখেই চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন রংপুরের কাউনিয়া কলেজের মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থী কলি রানী। জন্ম থেকেই দুই হাতের আঙুল নেই। কিন্তু শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি। এর আগে তিনি পায়ে লিখেই প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষায় এ গ্রেড এবং এসএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হয়েছেন।

কাউনিয়া মহিলা কলেজ কেন্দ্রে বৃহস্পতিবার গিয়ে দেখা গেছে, অন্য পরীক্ষার্থীদের সঙ্গে বসে পা দিয়ে খাতায় লিখে পরীক্ষা দিচ্ছেন কলি। প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে আত্মবিশ্বাস ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে আলোকিত মানুষ হওয়ার স্বপ্নে এগিয়ে যাচ্ছেন তিনি। কাউনিয়া উপজেলার গদাই গ্রামের মনোরঞ্জন রায়ের স্ত্রী রূপালী রানী বলেন, তার মেয়ে জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় কলির বাবা মারা যান। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট কলি। পারিবারিক সহযোগিতা, সহপাঠীদের উৎসাহ ও শিক্ষকদের অনুপ্রেরণায় কলি পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছেন। শুধু লেখাপড়াই নয়, গানেও রয়েছে তার অসাধারণ দক্ষতা। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গান গেয়ে তিনি একাধিক পুরস্কার পেয়েছেন। এছাড়াও ডান পা দিয়েই কম্পিউটার ও মোবাইল ফোন পরিচালনা করতে পারেন তিনি।

কলি রানী বলেন, লেখাপড়া শেষ করে বিসিএস ক্যাডার হয়ে মানুষের সেবা করতে চাই। আমি প্রমাণ করতে চাই, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা কখনোই স্বপ্নপূরণের পথে বাধা হতে পারে না।

কাউনিয়া মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ (ভারপ্রাপ্ত) ও কেন্দ্র সচিব রফিকুল ইসলাম বলেন, শারীরিক প্রতিবন্ধি হিসাবে আলাদা কক্ষে পরীক্ষা নেওয়ার কথা থাকলেও কলির ইচ্ছায় সবার সঙ্গে বসে সে পরীক্ষায় অংশ নেয়। বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী তাকে ৩০ মিনিট সময় বেশি দেওয়া হয়েছে। সে প্রথম দিনের পরীক্ষায় সাচ্ছন্দ্যে অংশ নিয়েছে।