পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগের পঞ্চগড় জেলার সহ-সভাপতি নাঈমুজ্জামান মুক্তার স্ত্রী, কেন্দ্রীয় যুব মহিলা লীগের সদস্য কাজী মৌসুমীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

একই মামলায় সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ও পঞ্চগড় জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি নিলুফার ইয়াসমিনকেও কারাগারে পাঠানো হয়েছে। 

সোমবার (২৯ জুন) পঞ্চগড়ের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মাহাবুব আলী মুয়াদ তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এ সময় দুই আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, গত বছর আওয়ামী লীগের ৭৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সদর উপজেলার ধাক্কামারা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের কাজীপাড়ায় নিজ বাসভবনে কেক কাটার আয়োজন করেন কাজী মৌসুমী। এ ঘটনায় আওয়ামী লীগের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে গত ২১ জুলাই পঞ্চগড় সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মানিক মিয়া বাদী হয়ে ৪৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

পরবর্তীতে কাজী মৌসুমী উচ্চ আদালত থেকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন লাভ করেন। জামিনের মেয়াদ শেষে তিনি জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করলে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কাজী মৌসুমী সেনাবাহিনীর সাবেক মেজর। 

শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল। আসামিপক্ষের হয়ে শুনানিতে অংশ নেন মির্জা সারওয়ার হোসেন, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এ হাসান প্রধানসহ কয়েকজন আইনজীবী।

শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী মির্জা সারওয়ার হোসেন বলেন, উচ্চ আদালতের দেওয়া জামিনের শর্ত অনুযায়ী কাজী মৌসুমী তদন্ত কর্মকর্তার ডাকে উপস্থিত হয়েছেন। এ সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে জামিনের আবেদন করা হলেও আদালত তা মঞ্জুর করেননি।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও পিপি মির্জা নাজমুল ইসলাম কাজল বলেন, কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যক্রমকে গোপনে উৎসাহিত করা, ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেওয়া এবং বিভিন্ন ব্যক্তিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে। এ সব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। 

তিনি আশা প্রকাশ করেন, মামলার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে দ্রুত অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।