তিন পার্বত্য জেলায় ২০২৩ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত সংঘটিত বন্যা ও জলাবদ্ধতার বেশিরভাগের জন্য চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন নির্মাণকে দায়ী করেছেন পরিবেশবাদী সংগঠন ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) এর সদস্যসচিব শরিফ জামিল।
তিনি বলেন, এসব বন্যা শুধু অতিবৃষ্টি বা পাহাড়ি ঢলের কারণে হয়নি। নদী, খাল ও জলাশয় দখল, নাব্য হ্রাস, অপরিকল্পিত সড়ক ও অবকাঠামো নির্মাণ, পাহাড় কাটা, বন উজাড় এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাবে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘সাম্প্রতিক বন্যার তথ্যভিত্তিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন ধরার সহ-আহ্বায়ক এম এস সিদ্দিকী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রিভার বাংলার সম্পাদক ও ধরার সদস্য ফয়সাল আহমেদ।
শরিফ জামিল বলেন, চলতি বছরের ৭ থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত টানা অতি ভারী বৃষ্টিপাত, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং আন্তঃসীমান্ত নদ-নদীর অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধির কারণে দেশের অন্তত ১৭টি জেলা ভয়াবহ বন্যা ও জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে।
তিনি বলেন, এতে ১০ লাখের বেশি মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রামে প্রায় ৬ লাখ, কক্সবাজারে ১ লাখ ৫৮ হাজার, রাঙ্গামাটিতে ১ লাখ ৮ হাজার, বান্দরবানে ৮৩ হাজার ৫০০ এবং কুড়িগ্রামে ১ লাখ ৩৬ হাজার মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। পাশাপাশি হাজার হাজার হেক্টর কৃষিজমি, হাজারো মাছের ঘের, সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের সভাপতির বক্তব্যে এম এস সিদ্দিকী বলেন, সাম্প্রতিক বন্যা শুধু প্রাকৃতিক কারণে নয়, অপরিকল্পিত উন্নয়ন, নদী-খাল ভরাট, পানি প্রবাহে বাধা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সম্মিলিত প্রভাবে এর ভয়াবহতা বেড়েছে।
বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান গ্রহণে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহ, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের অভিজ্ঞতা, জুলাই ৬-১৬ তারিখের পাঁচটি জাতীয় পত্রিকার তথ্যের ভিত্তিতে ‘ধরা’ একটি পর্যালোচনা প্রস্তুত করেছে। পাশাপাশি বন্যা ব্যবস্থাপনায় ব্যক্তি স্বার্থের পরিবর্তে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
হাওর রক্ষায় ধরার আহ্বায়ক জাফর সিদ্দিক বলেন, ‘বন্যা বাংলাদেশে নতুন কোনো দুর্যোগ নয়। কিন্তু ক্ষয়ক্ষতি কমাতে জাতীয় থেকে স্থানীয় পর্যায় পর্যন্ত সমন্বিত প্রস্তুতি, দ্রুত লজিস্টিক সহায়তা এবং স্থানীয় সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।’
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন ধরার সদস্য ও শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক মীর মোহাম্মদ আলী, দুর্যোগকবলিত এলাকার প্রতিনিধি হিসেবে চুনতি রক্ষা আন্দোলন-ধরার সমন্বয়ক সানজিদা রহমান, কক্সবাজার ধরার সদস্য ফরিদুল আলম শাহিন এবং মাতামুহুরী ধরার সদস্য বদরুননাহার কলি উপস্থিত থেকে মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা ও পর্যবেক্ষণ তুলে ধরবেন।
সংবাদ সম্মেলনে ধরার সদস্য, পরিবেশ আন্দোলনের প্রতিনিধি, গবেষক, উন্নয়নকর্মী এবং বিভিন্ন প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
আরএএস/এমএএইচ/








