বাংলাদেশ রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের অধীনে রাজধানীর তিনটি বেসরকারি মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলে (ম্যাটস) ভর্তি পরীক্ষায় অংশ না নিয়েই ১৯৩ শিক্ষার্থীকে ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। ২০২০-২১ থেকে ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে সংঘটিত এই জালিয়াতির ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) বরাবর তদন্ত প্রতিবেদন পাঠিয়েছে রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদ। স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ এবং রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের একাধিক দাপ্তরিক চিঠি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে। গত ৬ জুলাই দুদকে তদন্ত প্রতিবেদন পাঠানো হয়। দাপ্তরিক চিঠির কপি যুগান্তরের কাছে এসেছে।
রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের ভারপ্রাপ্ত সচিব ডা. মো. সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়েছে, ঢাকার মিরপুরের পূর্ব শেওড়াপাড়ায় অবস্থিত ট্রমা ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল টেকনোলজি (১০৩৬), মিরপুরের পূর্ব শেওড়াপাড়ায় অবস্থিত ট্রমা মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুল (১০৩৬) এবং শ্যামলীর ২৫/৪, খিলজি রোডে অবস্থিত শ্যামলী মেডিকেল অ্যাসিস্ট্যান্ট ট্রেনিং স্কুলে ২০২০-২১, ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষে মোট ১৯৩ জন শিক্ষার্থীকে জালিয়াতির মাধ্যমে ভর্তি ও রেজিস্ট্রেশন দেওয়া হয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর গত ৬ মে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের ১৯১তম গভর্নিং বডির সভায় জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে তদন্ত প্রতিবেদন, গভর্নিং বডির সভার কার্যবিবরণী এবং সংশ্লিষ্ট নথিপত্র দুদকে পাঠানো হয়েছে। এদিকে একই ঘটনায় রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের সহকারী পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. ইমরুল কায়েসের বিরুদ্ধে বিভাগীয় কার্যক্রমও চলছে। তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া গত বছরের ১২ অক্টোবর স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের উপসচিব স্বপন কুমার মণ্ডলকে তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়। চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি তদন্তসংক্রান্ত নথি তার কাছে পাঠানো হলেও বিভাগীয় তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। এ বিষয়ে জানতে স্বপন কুমার মণ্ডল-এর মুঠোফোনে কল করা হলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘ম্যাটসে আমার কোনো কাজ নাই। সেখানে আমি যাই না। এগুলো কে দেখে জানিও না। ম্যাটসের সঙ্গে কোনোকালে কোনো সম্পর্ক ছিল না। এগুলো শিক্ষা শাখা জানিয়ে ব্যস্ততা দেখিয়ে কল কেটে দেন।’ পরে ব্যক্তিগত মুঠোফোনের হোয়াটসঅ্যাপে তার নাম সংবলিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাঠানো হলে কোনো সাড়া দেননি।
স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের উপসচিব রাহেলা রহমত উল্লাহ স্বাক্ষরিত চিঠিতে রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা, ১৯৮৭-এর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুযায়ী ইমরুল কায়েসের বিরুদ্ধে তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা শিক্ষা-২ শাখার আরেকটি চিঠিতে ২০২৪ সালে সম্পন্ন হওয়া তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগ ও রাষ্ট্রীয় চিকিৎসা অনুষদের কর্মকর্তারা জানান, দুদকের অনুসন্ধান এবং বিভাগীয় কার্যক্রমের অগ্রগতির ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








