ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নিহত শিক্ষার্থী সাজিদ আবদুল্লাহর বাবা আহসান হাবিবুল্লাহ বলেন, ‘প্রশাসনকে আহ্বান করি সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যার বিচার করে দায়মুক্ত হন। আইন আছে, আদালত আছে। বিচার করতে অসুবিধাটা কী? আমি ধুঁকে ধুঁকে মরে যাচ্ছি। আর পারছি না। যাকে আমি হারিয়েছি তাকে তো পাব না। বিচারটাও কি পাবো না? আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল ছাত্র-ছাত্রীদেরকে বিচার নিশ্চিত করার জন্য আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানাই।’
রোববার (১৯ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে সাজিদ আবদুল্লাহ হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উন্মোচন, দোষীদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত এবং প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার দীর্ঘসূত্রতার প্রতিবাদে আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, আমি আমার ছেলেকে হারিয়েছি। আর কাউকে যেন না হারাতে হয় সে ব্যাপারে প্রশাসনকে আরও সোচ্চার হওয়া উচিৎ। এক বছর পরে এখানে দাঁড়িয়ে বিচার চাইতে হবে এটা চিন্তা করিনি। এখানে যত দাবি পেশ করা হয়েছে, আমি সবগুলোর সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করছি। আপনারা বিচার নিশ্চিত করুন। এক বছর পার হওয়ার পরও বিচার না হওয়াটা কতটুকু যুক্তিসংগত? কেন এখন পর্যন্ত একজন আসামিও গ্রেফতার হল না?
মানববন্ধনে নিহত সাজিদের বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. নাসিরুদ্দিন মিঝি, ড. খান মুহাম্মাদ ইলিয়াস, শাখা শিবিরের সভাপতি ইউসুব আলী, শাখা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম সুইট, শাখা জমিয়তে তালাবায়ে আরাবিয়ার সভাপতি এস এম শামীমসহ বিভাগটির প্রায় দু শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

এসময় তারা ‘সাজিদ হত্যার তদন্ত আর নয় বিলম্ব’, ‘বিচার, বিচার, বিচার চাই, সাজিদ হত্যার বিচার চাই’, ‘তদন্ত নিয়ে তালবাহানা, চলবে না চলবে না’, ‘সাজিদ হত্যার তদন্ত, করতে হবে করতে হবে’, ‘আমার ভাই মরলো কেন, প্রশাসন জবাব চাই’, ‘সাজিদ ভাই কবরে, খুনি কেন বাইরে?’, ‘খুনি ধর, জেলে ভর’, ‘খুনিদের ফাঁসি দাও, রশি লাগলে রশি নাও’, ‘সাজিদ ভাইয়ের রক্ত, বৃথা যেতে দেবো না’, ‘Justice, Justice, We want Justice’ ইত্যাদি স্লোগান দেয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সাজিদ আব্দুল্লাহর হত্যার বিচার কার্যক্রম করতে ব্যর্থ হয়েছে পূর্বের প্রশাসন। তারপরেই আসমা শাদিয়া রুমা ম্যামকে হত্যা করা হয়েছে। আজকে যদি সাজিদ আব্দুল্লাহর খুনিদেরকে বের করা হত, তাহলে রুনা ম্যাম হত্যার শিকার হত হতেন না। অনতিবিলম্বে আমরা সাজিদের হত্যাকারীদের গ্রেফতার করে শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি। সাজিদ আব্দুল্লাহর নামে একটি হল বা স্থাপনাকে নামকরণ করার দাবি জানাই। একইসঙ্গে সাজিদ মারা যাওয়ার পর আর্থিক ক্ষতিপূরণের যে ওয়াদা করা হয়েছিল, অনতিবিলম্বে তা প্রদান করতে হবে।
ইরফান উল্লাহ/কেএইচকে/এএসএম








