ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যা মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন আল-কুরআন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

রবিবার (১৯ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। কর্মসূচিতে আল-কুরআন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা সাজিদ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচার, সাজিদের নামে বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি হলের নামকরণ এবং তার পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানান।

এ সময় বিভাগের অধ্যাপক নাসির উদ্দীন মিঝি ও অধ্যাপক খান মোহাম্মদ ইলিয়াস, সাজিদের পিতা আহসান হাবিবুল্লাহ, বিভাগের শিক্ষকরা, শাখা ছাত্রশিবির, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন, তালাবায়ে আরাবিয়া, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মী, সাজিদের সহপাঠীসহ বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, এক বছর পেরিয়ে গেলেও সাজিদ হত্যা মামলার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন এখনো তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতার করতে পারেনি। এছাড়া, আগে প্রশাসন সাজিদের পরিবারকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিলেও তা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি।

তারা বলেন, শুরু থেকেই তাদের দাবি ছিল, বিশ্ববিদ্যালয়ে সাজিদ আব্দুল্লাহর নামে একটি স্থাপনা করা হোক, যাতে ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীরা তাকে জানতে ও স্মরণ করতে পারে।

শাখা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক এস এম সুইট বলেন, "এক বছরেও সাজিদ হত্যার বিচার হয়নি। তদন্তে কেউ গ্রেপ্তার পর্যন্ত হয়নি। পরিবারকে এককালীন সহায়তা দেওয়ার কথা তাও দেওয়া হয়নি। এছাড়া, শিক্ষার্থীরা কথা বললেই বহিষ্কারের হুমকি দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীদের সমালোচনা সহ্য করতে হবে। যদি সমালোচনা সহ্য করতে না পারেন তাহলে ক্ষমতার ফুল বিছানো চেয়ার তছনছ হতে সাতদিন লাগবে না। আমরা ভেবেছিলাম নতুন প্রশাসন সাজিদ হত্যার বিচার করবে কিন্তু আমরা জানতে পেরেছি নতুন প্রশাসন পরিবারের সাথে ন্যূনতম যোগাযোগ পর্যন্ত করেনি। এটি খুবই দুঃখজনক।" এ সময় তিনি হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ইউসুফ আলী বলেন, “দীর্ঘ এক বছর হলেও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয় নাই ও রহস্য উন্মোচন করা হয় নাই। এখানে বিশ্ববিদ্যালয় এবং পুলিশ প্রশাসনের যথেষ্ট হেয়ালিপনা আমরা দেখতে পেয়েছি। সাজিদ আব্দুল্লাহর খুনিদের অতি দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে, একটি স্থাপনার নাম এবং যে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার কথা ছিল, অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে সেই ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।” তিনি দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আল-কুরআন বিভাগের সবাইকে ধারাবাহিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

মানববন্ধনের তিন দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে সাজিদ আব্দুল্লাহর পিতা আহসান হাবিবুল্লাহ বলেন, “এক বছর পার হলেও বিচার হলো না, এটা আসলে কতটুক যুক্তিসঙ্গত? যাকে হারিয়েছি তাকে পাব না, বিচারও কি পাব না? আর যেন কোনো শিক্ষার্থী এমন নির্মম হত্যার শিকার না হয়, এজন্য প্রশাসনকে আরো দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।” এ সময় তিনি দাবি আদায়ে শিক্ষার্থীদের আরো সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত, গত বছরের ১৭ জুলাই বিকেলে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হল-সংলগ্ন পুকুর থেকে সাজিদ আব্দুল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ৩ আগস্ট প্রকাশিত ভিসেরা প্রতিবেদনে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন, জড়িতদের শাস্তি এবং ক্যাম্পাসের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে শিক্ষার্থীরা দফায় দফায় মানববন্ধন ও আন্দোলন করে আসছেন।