বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় সোমবার মুখোমুখি হচ্ছে পর্তুগাল ও স্পেন। তবে ম্যাচটি শুধু দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের লড়াই নয়, এটি হতে যাচ্ছে দুই প্রজন্মেরও দ্বৈরথও বটে। একদিকে ৪১ বছর বয়সী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, অন্যদিকে ১৮ বছরের বিস্ময়বালক লামিনে ইয়ামাল।
গত বছর উয়েফা নেশন্স লিগের ফাইনালের পুনরাবৃত্তি কি হতে যাচ্ছে এই ‘আইবেরিয়ান ডার্বি’তে? সেবার টাইব্রেকারে স্পেনকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল পর্তুগাল। তবে এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে এগিয়ে রেখেই দেখছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা। এর কারণ, আসর শুরু হ ওয়ার পর স্পেন ধীরে-ধীরে ছন্দ খুঁজে পেয়েছে, অন্যদিকে আসরের বড় দল্গুলোর মধ্যে পর্তুগাইল একমাত্র ছন্দহীন।
গ্রুপ পর্বে প্রত্যাশামতো খেলতে পারেনি পর্তুগাল। দ্বিতীয় স্থান নিয়ে নকআউটে ওঠার পর শেষ বত্রিশে ক্রোয়েশিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে কোনোমতে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে রবার্তো মার্তিনেজের দল।
অন্যদিকে স্পেন শক্তিশালী রক্ষণ, দারুণ পাসিং ফুটবল ও আক্রমণভাগের ধারাল পারফরম্যান্সে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার দাবিদার লা রোহারাও। গ্রুপ ‘এইচ’-এর চ্যাম্পিয়ন স্পেন সাত পয়েন্ট নিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে। সৌদি আরব ও উরুগুয়েকে হারানোর পাশাপাশি কেপ ভার্দের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। এরপর শেষ বত্রিশে অস্ট্রিয়াকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের শক্তির জানান দেয় তারা। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ৩৪ ম্যাচ অপরাজিত স্পেন। আর মাত্র একটি ম্যাচ অপরাজিত থাকলেই ২০০৭ থেকে ২০০৯ সালের মধ্যে গড়া নিজেদের দীর্ঘতম ৩৫ ম্যাচের অপরাজিত থাকার রেকর্ড স্পর্শ করবে তারা।
এই বিশ্বকাপকে অনেকেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ হিসেবে দেখছেন। ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড এখনও পর্তুগালের সবচেয়ে বড় তারকা। তবে মাঠের পারফরম্যান্সের চেয়ে তার নেতৃত্ব ও উপস্থিতিই এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ। চলতি বিশ্বকাপে তার গোল তিনটি হলেও আগের মতো বিস্ফোরক রূপ আর দেখা যাচ্ছে না।
এদিকে রোনালদোও ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। জানিয়ে দিয়েছেন, এটাই তার শেষে বিশ্বকাপ। ফলে নকআউটের প্রতিটি ম্যাচই হতে পারে পাঁচবারের ব্যালন ডি'অর জয়ীর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ অধ্যায়। স্পেনের কাছে হারলেই পর্তুগালের সঙ্গে শেষ হয়ে যেতে পারে রোনালদোর বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্নও। আর জিতলে বেঁচে থাকবে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ শিরোপা জয়ের স্বপ্ন।
উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে ধীরে-ধীরে আলো কেড়ে নিচ্ছেন স্পেনের তরুণ উইঙ্গার লামিনে ইয়ামাল। হ্যামস্ট্রিং ইনজুরির কারণে শুরুর দিকে শঙ্কা থাকলেও এখন তিনি দলের অন্যতম ভরসা। শেষ বত্রিশে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচসেরা পারফরম্যান্স করে আবারও নিজের প্রতিভার প্রমাণ দিয়েছেন ১৮ বছর বয়সী এই তারকা।
ইয়ামাল বলেন, ‘আমি প্রতিটি রাউন্ড পেরিয়ে স্পেনকে নিয়ে শিরোপা জিততে চাই। আমরা কোনো দলকেই ভয় পাই না। আমরা স্পেন। এখন থেকেই আসল বিশ্বকাপ শুরু।’ চলতি আসরে ইয়ামালের গোল একটি। তবে স্পেনের সর্বোচ্চ গোলদাতা মিকেল ওইয়ারসাবাল, যার গোলসংখ্যা চার। ২০১০ সালে প্রথম ও একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের ১৬ বছর পর দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্ন দেখছে স্পেন। আর সেই স্বপ্নপূরণের পথে সবচেয়ে বড় পরীক্ষাগুলোর একটি অপেক্ষা করছে সোমবার ডালাসে; ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর্তুগাল।








