সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে পটুয়াখালীতে টানা পাঁচ দিন ধরে চলছে অবিরাম বৃষ্টিপাত। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে দিনমজুর ও শ্রমজীবীরা।
এদিকে, বৈরী আবহাওয়ার কারণে বঙ্গোপসাগর উত্তাল থাকায় পটুয়াখালীর পায়রা, চট্রগ্রাম, কক্সবাজার ও মোংলা সমুদ্র বন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখা হয়েছে। সেই সঙ্গে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরা ট্রলার ও নৌকাকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পটুয়াখালীর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে আজ বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত জেলায় ৭০ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা এই ভারী বর্ষণে উপকূলের খাল-বিল তলিয়ে গেছে। অনেক স্থানে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। উপকূলের আকাশ এখনো ঘন মেঘে ঢাকা রয়েছে।
বৃষ্টির কারণে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন ছোট যানবাহনের চালক, দিনমজুর ও খেটে খাওয়া মানুষ। কুয়াকাটা পৌর শহরের ভ্যানচালক হোসেন মিয়া বলেন, “কয়েকদিন ধরে খালি বৃষ্টি আর বৃষ্টি। কুয়াকাটায় পর্যটক নেই বললেই চলে। এভাবে চলতে থাকলে পরিবার পরিজন নিয়ে সংসার চালানো অনেকটা দায় হয়ে পড়বে।”
ভারী বর্ষণের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলের কৃষকরাও দুশ্চিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। কলাপাড়ার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের কৃষক কামাল গাজী জানান, তিনিসহ এলাকার কৃষকেরা বর্তমানে বিভিন্ন বর্ষাকালীন সবজি রোপণ করেছেন। এখন পর্যন্ত বড় কোনো ক্ষতি না হলেও বৃষ্টি এভাবে অব্যাহত থাকলে সবজি গাছে পচন ধরার আশঙ্কা রয়েছে।
আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুর চাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। এর প্রভাবে উপকূলীয় এলাকায় আরো বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি এবং দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী জানান, এই বৃষ্টিপাত এবং বজ্রবৃষ্টি আরো দুই দিন অব্যাহত থাকতে পারে। সেই সঙ্গে উপকূলীয় এলাকায় ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।








