মধুর এক সমস্যায় পড়েছেন আর্জেন্টিনার কোচ লিওনেল স্কালোনি। কারণটা হয়তো সকলেরই জানা। আর্জেন্টিনা-স্পেন ফাইনাল। যেটাকে ‘অল-স্প্যানিশ ফাইনাল’ বললেও ভুল বলা হবে না। স্কালোনির আত্মীয়স্বজনেরা কোন দলকে সমর্থন করবেন, সেটা নিয়েই মূলত তাঁরা দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন।

স্পেনের মতো আর্জেন্টিনার জাতীয় ভাষাও স্প্যানিশ। শুধু তাই নয়, ২০০৮ সালে মায়োর্কায় তাঁর স্ত্রী এলিসা মনতেরোর সঙ্গে পরিচিত হন। ওই বছরই তিনি লাৎসিও থেকে ধারে (লোনে) মায়োর্কা ক্লাবে যোগ দিয়েছিলেন। তাঁদের (স্কালোনি-এলিসা) দুই ছেলে ইয়ান ও নোয়া ২০১২ এবং ২০১৬ সালে স্পেনের ওই একই দ্বীপে জন্মগ্রহণ করে। আজ যখন স্কালোনি সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়েছেন, তাঁর কাছে এসেছে একই প্রশ্ন। উত্তরে আর্জেন্টিনার কোচ বলেন, ‘মায়োর্কাতেও আমাদের আত্মীয়স্বজনেরা আছেন। তাঁরা অবশ্যই দ্বিধাগ্রস্ত অবস্থায় রয়েছেন। তাঁদের জন্য এটা এক কঠিন পরিস্থিতি এবং সেটা বুঝতে পারি। তবে যা-ই হোক, শেষ পর্যন্ত তারা খুশিই হবে।’

স্প্যানিশ নাগরিকত্ব থাকা সত্ত্বেও দুই সন্তান বাবার কারণে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলকেই সমর্থন করবে বলে বিশ্বাস স্কালোনির। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ এবং ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত কোপা আমেরিকা জয়ের উদ্‌যাপনের সময় তাদের বাবার সঙ্গে উদ্‌যাপন করতে দেখা গেছে। তখন তারা (ইয়ান ও নোয়া) আর্জেন্টিনার আকাশি-সাদা জার্সি পরে ছিল এবং শিরোপাজয়ী খেলোয়াড়দের সঙ্গে ছবিও তুলেছিল।

আগামীকাল নিউজার্সিতে ফাইনালে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা-স্পেন। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচের আগে আজ সংবাদ সম্মেলনে এ ধরনের প্রশ্ন ( পরিবারের সদস্যরা আর্জেন্টিনা নাকি স্পেনের সমর্থক) জিজ্ঞেস করা হলে স্কালোনি বলেন, ‘স্ত্রী ও সন্তানেরা অবশ্যই আর্জেন্টিনার পক্ষেই থাকবে। আমার স্ত্রী স্প্যানিশ। তবু সে খুব ভালোভাবেই জানে যে কী পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছি এবং কী কষ্ট সহ্য করছি আমি। আমার সন্তানরা তো সেটা আরও ভালোভাবে বোঝে।’

স্কালোনির স্ত্রী এলিসার সব আত্মীয়ই মায়োর্কার বাসিন্দা। স্বাভাবিকভাবেই আর্জেন্টিনার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা স্পেনকে সমর্থন দেবেন। একই সঙ্গে স্কালোনির দুঃখে দুঃখী হবেন স্ত্রী-সন্তানেরা। যদি আর্জেন্টিনা জেতে, তখন স্বাভাবিকভাবেই এলিসা ও দুই সন্তান ইয়ান-নোয়ার সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার আনন্দে ভেসে যাবেন আর্জেন্টাইন কোচ।

নিউজার্সিতে আগামীকাল স্পেন দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জিততে মাঠে নামবে। এর আগে ২০১০ সালে একবারই ফাইনাল খেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল স্প্যানিশরা। আর্জেন্টিনা নামবে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে। যদি আলবিসেলেস্তেরা রোববার চ্যাম্পিয়ন হয়, তাহলে তৃতীয় দল হিসেবে বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার কীর্তি গড়বে স্কালোনির দল। এর আগে ইতালি-ব্রাজিলের ছিল এমন কীর্তি।