বিশ্বকাপের প্রথম সেমিফাইনালের লাইনআপ চূড়ান্ত হওয়ার পর সবাই বলতে শুরু করেছেন, এ যেন ফাইনালের আগে আরেক ফাইনাল। সত্যিই তাই। কিলিয়ান এমবাপ্পের ফ্রান্স বনাম লামিনে ইয়ামালের স্পেন। ফুটবল রোমান্টিকদের তৃষিত নয়ন জুড়ানো, জিভে জল আনার মতো অমৃততুল্য ব্লকবাস্টার লড়াই-ই বটে। ১৪ জুলাই বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ডালাসে ফাইনালে ওঠার ধুন্ধুমার লড়াইয়ে, অর্থাৎ প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই পরাশক্তি। গত পরশু রাতে লস অ্যাঞ্জেলেসে বেলজিয়ামকে ২-১ গোলে হারিয়ে ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে ইউরো চ্যাম্পিয়ন স্পেন। এর আগে মরক্কোকে ২-০ গোলে হারিয়ে শেষ চারের টিকিট কাটে গত দুই বিশ্বকাপের ফাইনালে খেলা ফ্রান্স।

এ নিয়ে তিন বছরে তিনটি বড় টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে দেখা হচ্ছে স্পেন ও ফ্রান্সের। ২০২৪ ইউরোতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল স্পেন। গত বছর উয়েফা নেশন্স লিগের সেমিফাইনালে ফের ইয়ামালদের কাছে ৫-৪ গোলে হেরে যান এমবাপ্পেরা। ইতিহাস থেকে প্রেরণা নিতে পারে ফ্রান্সও। বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে টাইব্রেকার ছাড়া স্পেনের সবশেষ হার ফ্রান্সের বিপক্ষেই, ২০০৬ আসরের শেষ ষোলোতে। এ দুদলের দ্বৈরথে লুকানো থাকে রোমাঞ্চের রসদ। দুদলের দুই প্রাণভোমরা এমবাপ্পে ও ইয়ামাল খেলেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই স্প্যানিশ ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনায়। বিশ্বকাপের মঞ্চেও তাই থাকছে এল ক্লাসিকের ঝাঁজ।

স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে সরাসরি বলেছেন, ‘এই ম্যাচকে ফাইনালের আগে ফাইনাল বললে বাড়িয়ে বলা হবে না। দুটি দলই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সামর্থ্য রাখে। ফ্রান্স দলের শক্তি ও গভীরতা সম্পর্কে আমরা সচেতন। এটাও আমরা জানি যে, আমরাই একমাত্র দল যারা তাদের দুটি সেমিফাইনালে হারিয়েছি।’ ইউরো ও নেশন্স লিগের সুখস্মৃতিতে বুঁদ হয়ে এবার বিশ্বকাপেও ফ্রান্স-বধের স্বপ্ন দেখছেন স্পেনের তরুণ সেনাপতি ইয়ামাল, ‘ফ্রান্সের যদি কাউকে ভয় পেতে হয়, সেটা আমরা। আগেও আমরা ওদের বিদায় করেছি। সেমিফাইনালে ওদের দুবার হারিয়েছি। আমাদের কোনো ভয়-ডর নেই। আমি মনে করি, বিশ্বকাপে আমরাই সেরা দুই দল।’

ফর্মের বিচারে ফ্রান্সের আক্রমণভাগ এই বিশ্বকাপের সেরা। এমবাপ্পে, দেম্বেলে, ওলিসে ও দুয়ের সমন্বয়ে গড়া ফরাসি আক্রমণভাগকে থামানো যে কোনো রক্ষণভাগের জন্য দুঃসাধ্য। তবে কোনো দল যদি সেটা করতে পারে, সেটি হলো স্পেন। বেলজিয়ামের চার্লস ডি কেটেলারের গোলের আগে পুরো টুর্নামেন্টে একটিও গোল হজম করেনি তারা। তবে রক্ষণ জমাট হলেও গোলের জন্য সংগ্রাম করতে হচ্ছে স্পেনকে। বেলজিয়ামের বিপক্ষে জয়সূচক গোলের জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হয়েছে ৮৮ মিনিট পর্যন্ত। আগের ম্যাচে পর্তুগালকে তারা হারিয়েছিল যোগ করা সময়ের গোলে। দুই ম্যাচেই ৮৫ মিনিটের পর বদলি হিসাবে নেমে জয়সূচক গোল করেন মিকেল মেরিনো। মূল ফরোয়ার্ডরা নিয়মিত গোল না পেলেও স্পেন খেলছে দারুণ ছন্দময় ফুটবল। স্পেনের কাছে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর বেলজিয়ামের গোলকিপার থিবো কোর্তোয়া বলেছেন, ‘স্পেন বিশ্বকাপ জিততে পারে। এই দলে সেই দম আছে। আমি মনে করি, স্পেন-ফ্রান্স সেমিফাইনালে যারা জিতবে, তারাই চ্যাম্পিয়ন হবে।’