ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য মণিপুরে আবারও ছড়িয়ে পড়েছে সহিংসতা। গত দুই দিনে নতুন করে একাধিক গ্রামে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অন্তত কয়েক ডজন বাড়িঘর পুড়ে গেছে। নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে বহু পরিবার ঘরছাড়া হয়েছে। কুকি ও নাগা সংগঠনগুলো একে অপরের বিরুদ্ধে হামলা ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ তুললেও প্রশাসন এখনো কোনো পক্ষের অভিযোগ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। বুধবার সীমান্তবর্তী কামজং জেলার ফাইমল, শাংখালোক ও আশপাশের কয়েকটি গ্রামে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এর পর বৃহস্পতিবার ভোরে নোনি জেলার লেইকট গ্রামের বেশ কয়েকটি বাড়িতে আগুন লাগানোর অভিযোগ ওঠে।

নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণের কাজ চলছে। কুকি সংগঠনগুলোর অভিযোগ, সশস্ত্র হামলাকারীরা ভোরে লেইকট গ্রামে হামলা চালিয়ে বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে দেয়। অন্যদিকে নাগা সংগঠনগুলোর দাবি, এর আগের দিন তাদের গ্রামেও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে এবং প্রতিপক্ষই এই সংঘাত উসকে দিচ্ছে। উভয়পক্ষই একে-অপরকে সহিংসতার জন্য দায়ী করলেও এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিরাপত্তার স্বার্থে কিছু গ্রাম আগেই খালি করে দেওয়া হয়েছিল। তারপরও নতুন করে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় পাহাড়ি এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে টহল জোরদার করা হয়েছে।চলতি বছরের শুরু থেকে কুকি ও নাগা জনগোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে। অপহরণ, পালটা হামলা এবং হত্যাকাণ্ডের একাধিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক অগ্নিসংযোগের ঘটনাগুলো সেই সংঘাতকে আরও গভীর করেছে।

মণিপুরে দীর্ঘদিন ধরে চলমান জাতিগত সংঘাত ইতোমধ্যে রাজ্যের সামাজিক ও প্রশাসনিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে। বিভিন্ন এলাকায় এখনো বহু মানুষ ত্রাণশিবিরে বসবাস করছেন। নতুন করে সহিংসতা শুরু হওয়ায় তাদের নিজ নিজ গ্রামে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনাও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এদিকে নতুন সহিংসতার ঘটনায় কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সমালোচনা করেছেন ভারতের লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী।