বিশ্বকাপের দুই দলের দেখা হয়েছিল দুই দশক আগে, ২০০৬ সালের জার্মানি বিশ্বকাপে। সেবার শেষ ষোলোর লড়াইয়ে পিছিয়ে পড়েও জিনেদিন জিদানের জাদুতে ম্যাচ জিতে নিয়েছিল ফ্রান্স। দুই দশক পর বিশ্বকাপে আবার মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। তবে এবার দৃশ্যপট সম্পূর্ণ আলাদা। ইতিহাসের পাতা ফ্রান্সের পক্ষে কথা বললেও বর্তমান কিন্তু স্পেনের পক্ষে। ২০২৪ ইউরো আর সর্বশেষ নেশনস লিগের সেমিফাইনাল—টানা দুই দেখায় জিতেছে লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল। ফলে ডালাসে আজ রাত ১টায় শুরু হতে যাওয়া এই সেমিফাইনাল রূপ নিয়েছে ফাইনালের আগে ফাইনালে।
বিশ্বকাপে ফ্রান্সের ধারাবাহিকতা নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। গত আসরে রানার্সআপ, তার আগের আসরে চ্যাম্পিয়ন। এবারও খেলছে শেষ চারে। গ্রুপপর্ব থেকে কোয়ার্টার ফাইনাল—টানা ছয় ম্যাচ জিতে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে দিদিয়ের দেশমের দল। নকআউট পর্বে সুইডেন, প্যারাগুয়ে ও মরক্কোকে বিদায় করার পথে কোনো গোলই হজম করেনি ফরাসিরা। স্পেনের বিপক্ষে আর একটি জয় তাদের নিয়ে যাবে টানা তৃতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালে। ইউরোপের কোনো দল হিসেবে এই কীর্তি এর আগে কেবল পশ্চিম জার্মানিই গড়তে পেরেছিল।
স্পেনের এবারের বিশ্বকাপ-যাত্রা শুরু হয়েছিল কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্রয়ের অস্বস্তি নিয়ে। তবে প্রথম ম্যাচের সেই হোঁচটই যেন তাদের জাগিয়ে তুলেছে। এরপর সৌদি আরব, উরুগুয়ে, অস্ট্রিয়া, পর্তুগাল ও বেলজিয়ামকে হারিয়ে টানা পাঁচ জয়ে সেমিফাইনালে পা রেখেছে তারা। পুরো টুর্নামেন্টে স্প্যানিশরা গোল খেয়েছে মাত্র একটি।
বল দখলে একচেটিয়া আধিপত্য, বল হারানোর পর দ্রুত তা ফিরে পাওয়া এবং ধৈর্য ধরে সঠিক সুযোগের অপেক্ষা—দে লা ফুয়েন্তের দল প্রতিটি ম্যাচেই একই কৌশলে প্রতিপক্ষকে বোতলবন্দী করে চলেছে।
কিলিয়ান এমবাপ্পে, উসমান দেম্বেলে, মাইকেল ওলিসে ও দেজিরে দুয়েদের নিয়ে গড়া ফরাসি আক্রমণভাগ যেকোনো মুহূর্তে ম্যাচের গতিপথ বদলে দিতে পারে। বিশেষ করে ৮ গোল করে গোল্ডেন বুটের দৌড়ে শীর্ষে থাকা এমবাপ্পে স্পেনের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ।
স্পেনের শক্তি নির্দিষ্ট কোনো ফুটবলার নন, বরং একতা। রদ্রি, পেদ্রি ও দানি অলমোরা যেমন মাঝমাঠ নিয়ন্ত্রণ করছেন, তেমনি কুকুরেয়া, লাপোর্তরা নিজেদের দুর্গ গড়ে তোলার কাজটা ঠিকঠাকই করেছেন। প্রতিপক্ষের বুকে কাঁপন ধরানোর জন্য লামিনে ইয়ামাল তো আছেনই।
হাইভোল্টেজ ম্যাচের আগে মাঠের বাইরের কথার লড়াইও বেশ জমে উঠেছে। স্প্যানিশ গোলরক্ষক উনাই সিমন অবশ্য এমবাপ্পের চেয়ে দেম্বেলেকে বেশি বিপজ্জনক মনে করছেন। দেম্বেলে দুই পায়েই সমান দক্ষ থাকায় তাঁকে আটকানো বেশি কঠিন বলে মন্তব্য করেন তিনি। তবে সিমোন নিজের আত্মবিশ্বাসও লুকিয়ে রাখেননি, ‘সবাই যদি নিজেদের সেরাটা দিতে পারে, তাহলে কোনো দলই আমাদের হারাতে পারবে না।’
এর আগে লামিনে ইয়ামাল মন্তব্য করেছিলেন, ফ্রান্সেরই স্পেনকে ভয় পাওয়া উচিত। কারণ, টানা দুবার তারা ফ্রান্সকে হারিয়েছেন। সেই মন্তব্যের জবাবে ফরাসি ডিফেন্ডার ইব্রাহিমা কোনাতে মনে করিয়ে দেন, ‘আমাদের কাউকে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। বরং বিনয়ী থেকে এই ফাঁদে পা দেওয়া যাবে না।’
ফ্রান্স অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পেও সেমিফাইনালকে শেষ গন্তব্য ভাবছেন না। তাঁর সোজা কথা, ‘স্বস্তি পাওয়ার একটাই উপায়, আর সেটা হলো জেতা। সামনে যা আছে, তা আরও কঠিন।’
নিউইয়র্ক-নিউজার্সির টিকিট পাওয়া কতটা কঠিন, সেই উত্তর মিলবে আজ ডালাসে।







