মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ীতে গৃহবধূ আছমা আক্তারের (২৬) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
পিবিআই জানায়, আছমা আক্তারের এটি ছিল দ্বিতীয় বিয়ে। প্রথম বিয়ের বিষয়টি গোপন রাখায় স্বামী ইমাম মুহাসিন মাতুব্বরের (৩২) সঙ্গে প্রায়ই কলহ হতো। এরই জের ধরে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্ত মুহাসিন মাতুব্বরকে (৩২) গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের উপ-পুলিশ পরিদর্শক রনি দেবনাথ এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, পুলিশের অভিযানে মঙ্গলবার (৭ জুলাই) গোপালগঞ্জের মকসুদপুর উপজেলার বাটিকামারী বাজার এলাকা থেকে অভিযুক্ত মুহাসিন মাতুব্বরকে গ্রেফতার করা হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন।
এর আগে, সোমবার (৬ জুলাই) সকালে পারিবারিক কলহের জেরে বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে আছমাকে মারধর করেন মুহাসিন। পরে ধাক্কা দিলে তিনি কাঠের পাটাতনে পড়ে গুরুতর আহত হন। এরপর গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।

এ ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী চার বছরের কন্যাকে নিয়ে পালিয়ে যান। পরে নিহতের ভাই শামীম তালুকদার বাদী হয়ে টঙ্গীবাড়ী থানায় মামলা করেন।
এদিকে গ্রেফতারের পর বুধবার বিকেলে অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করা হয়। তিনি জবানবন্দিতে জানান, প্রায় চার মাস আগে ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক তাদের বিয়ে হয়। তবে আছমা আক্তারের আগে দুইবার বিয়ে হয়েছিল, যা স্বামীর কাছে গোপন রাখায় তাদের দাম্পত্য জীবনে প্রায়ই কলহ লেগে থাকতো।
ঘটনার আগের দিন এশার নামাজের পর বাসায় ফিরে পুরোনো জামা পরা নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে মুহাসিন আছমাকে মারধর করেন। এতে তার মৃত্যু হলে মরদেহ ঝুলিয়ে রাখেন। পরে চার বছরের কন্যা সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে যান।
শুভ ঘোষ/এসআর/এএসএম








