জার্মানির মত শক্তিশালী দলকে টাইব্রেকারে হারানো চাট্টিখানি কথা নয়। এমন একটি সাফল্য অর্জন করার পর প্যারাগুয়ের ‘প্রতিটি ফুটবলারকে একেকজন কিংবদন্তি’ হিসেবে অভিহিত করলেন দলটির কোচ গুস্তাভো আলফারো। পেনাল্টি শ্যুটআউটে জার্মানিকে হারিয়ে প্যারাগুয়ের বিশ্বকাপ ফুটবলের শেষ ষোলোয় (রাউন্ড অফ-১৬) ওঠার ঐতিহাসিক সাফল্যকে কোচ এভাবেই তুলে ধরলেন।

২০২৪ সালের আগস্টে প্যারাগুয়ে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়া এই আর্জেন্টাইন কোচের মতে, দলের অন্যতম বড় গুণ ছিল শেষ পর্যন্ত অবিচল থাকা। দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষ সমতাসূচক গোল শোধ করে দিলেও এবং পেনাল্টি শ্যুটআউটে জয় নিশ্চিত করার দুটি সুযোগ হাতছাড়া হওয়ার পরেও তারা ভেঙে পড়েনি। শেষ পর্যন্ত ডিফেন্ডার হোসে কানালের জয়সূচক পেনাল্টিটি সফলভাবে জালে জড়ান।

প্যারাগুয়ের কোচ স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমাদের ক্ষেত্রে বিষয়গুলো এভাবেই ঘটে। কষ্ট বা সংগ্রাম ছাড়া আমরা কিছুই অর্জন করতে পারি না। যখন দুটি পেনাল্টি কিক বাকি ছিল; মনে হচ্ছিল জয়টা যেন নিশ্চিতই হয়ে গেছে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করতে আমাদের ষষ্ঠ কিক পর্যন্ত যেতে হয়েছিল। খেলোয়াড়দের বলেছি, আমি যেন এক মহাকাব্যিক মানসিক যন্ত্রণাময় বিকেল ও সন্ধ্যার মধ্যে বেঁচে ছিলাম, ঠিক যেমনটা প্যারাগুয়ে সহ্য করেছে তার মতোই।’

দলের মানসিকতারও প্রশংসা করেন এই আর্জেন্টাইন, ‘টিকে থাকার বা লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা আমাদের পরিচয়ের গভীরে মিশে আছে। আমরা জানতাম আমাদের লড়াই চালিয়ে যেতে হবে। সত্যি বলতে, আমি তাদের বলেছিলাম যে আমি ২৬ জন যোদ্ধাকে জাতীয় সংগীত গাইতে দেখতে চাই এবং তারা যেন মাঠ ছাড়ে কিংবদন্তি হয়ে। তারা ঠিক সেটাই করেছে। হয়তো পরের ধাপে আমরা বাদ পড়ে যাব। কিন্তু আজকের ম্যাচটি ছিল এক মহাকাব্যিক লড়াই।’

আলফারো আরও জানান যে, ম্যাচের আগের দিন তিনি দেশটির প্রেসিডেন্ট সান্তিয়াগো পেনিয়ার সঙ্গে কথা বলেছিলেন। প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, প্যারাগুয়ে যদি পরের পর্বে যেতে পারে, তবে তিনি মঙ্গলবার জাতীয় ছুটি ঘোষণা করবেন। শেষ পর্যন্ত তাদের যোগ্যতা অর্জনের মধ্য দিয়ে সেই ঘোষণা বাস্তবায়িত হলো।

এ সম্পর্কে কোচ বলেন, ‘গতকাল প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আমার কথা হয়েছিল এবং তিনি একটি চমৎকার বার্তা পাঠিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, প্যারাগুয়ে জিতলে তিনি ছুটি ঘোষণা করবেন। ফুটবল এমন সব অসাধ্য সাধন করে। জাতীয় ছুটি পাওয়া কতটা কঠিন একটা বিষয়! এটাই ফুটবলের এক বিস্ময়কর ক্ষমতা।’

তিনি উচ্ছ্বাসের সঙ্গে বললেন, ‘এটি ছিল আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় জয়। তাই আমি খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ জানাই। এক অবিস্মরণীয় বিকেল ও সন্ধ্যা। আমি বারবার গ্যালারি ও মাঠের দিকে তাকাচ্ছিলাম কারণ জাতীয় দলের প্রতি খেলোয়াড়দের ভালোবাসার সেই অনন্য বহিঃপ্রকাশের অনুভূতি আমার চোঁখ ও মন যেন পুরোপুরি ধারণ করতে পারছিল না। এটি ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় জয়।’

আরআর/আইএইচএস/