প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বারবার অনিয়মের অভিযোগকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন শুক্রবার আরও বিস্তৃত রূপ নিতে চলেছে। বুধবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর বাসভবনে বিরোধী শিবিরের বৈঠকে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুক্রবার সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। ফলে দিল্লির গণ্ডি ছাড়িয়ে বিভিন্ন রাজ্যেও আন্দোলনের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সংসদের অধিবেশন চলাকালীন এই আন্দোলন কেন্দ্রের উপর বাড়তি রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। বিরোধী শিবির ইতিমধ্যেই ছাত্রদের আন্দোলনের পাশে প্রকাশ্যে দাঁড়িয়েছে। ফলে আন্দোলন শুধুমাত্র পরীক্ষায় অনিয়মের প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ না থেকে জাতীয় রাজনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।এই পরিস্থিতিতে অচলাবস্থা কাটাতে কেন্দ্রের তরফে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংহ। তাঁর দাবি, বুধবার বিকেল থেকে এখনও পর্যন্ত আন্দোলনকারী সিজেপি প্রতিনিধিদের কাছে চারটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। তাঁদের সুবিধামতো সময় ও স্থানে আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রয়োজনে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জেপি নাড্ডা এবং তিনি নিজেও নির্ধারিত স্থানে গিয়ে আলোচনায় অংশ নিতে প্রস্তুত বলেও জানিয়েছেন। তবে এখনও পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের তরফে ইতিবাচক সাড়া মেলেনি।এদিকে আন্দোলনের অন্যতম মুখ সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক গত ২৮ জুন থেকে যন্তরমন্তরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রায় এক মাস ধরে অনশন চলায় তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে এবং ওজনও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বলে জানা গিয়েছে। বিরোধী শিবিরের একাধিক নেতা তাঁর সঙ্গে দেখা করে সংহতি প্রকাশের পাশাপাশি অনশন প্রত্যাহারের আবেদন জানিয়েছেন। কিন্তু ওয়াংচুক স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থেকে সরে আসার প্রশ্নই নেই।সব মিলিয়ে ছাত্র আন্দোলন এখন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে। একদিকে সরকার আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে আন্দোলনকারীরা দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার অবস্থানে অনড়। ফলে শুক্রবারের দেশব্যাপী বিক্ষোভ কতটা ব্যাপক আকার নেয় এবং তার রাজনৈতিক অভিঘাত কতদূর গড়ায়, সেদিকেই এখন নজর দিল্লি থেকে রাজ্য—সব মহলের।
রাজনীতি
রাজপথে আজ দেশ, ছাত্র আন্দোলনে নতুন মোড়

শেয়ার করুন







