অনিয়ম ও দুর্নীতির বৃত্ত থেকে বের হতে পারছে না বরিশাল সিভিল সার্জন কার্যালয়। একের পর এক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ও শাস্তিমূলক বদলির ঘটনায় স্থবির হয়ে পড়েছে দাপ্তরিক কার্যক্রম। সর্বশেষ বর্তমান সিভিল সার্জনের আকস্মিক ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’ এবং তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে বিতর্কিত এক চিকিৎসকের যোগদানের গুঞ্জনে জনমনে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২১ সালের নভেম্বরে বরিশালের প্রথম নারী সিভিল সার্জন হিসেবে যোগ দেওয়া ডা. মারিয়া হাসানকে দুর্নীতির অভিযোগে বদলি করা হয়। এরপর ২০২৫ সালের মার্চে ডা. এস এম মনজুর এলাহীকে ‘চলতি দায়িত্বে’ সিভিল সার্জন হিসেবে পদায়ন করা হয়। তবে চার মাস না যেতেই তার বিরুদ্ধেও নানা অনিয়মের অভিযোগ ওঠে।গত ২১ জুলাই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে ডা. এস এম মনজুর এলাহীকে তাৎক্ষণিক অবমুক্ত (স্ট্যান্ড রিলিজ) করে ঢাকার মহাখালীতে পদায়ন করা হয়েছে। এ বিষয়ে মনজুর এলাহী বলেন, “আমি এখনো দায়িত্ব বুঝিয়ে দিইনি। আমার কিছু সমস্যা আছে। কয়েকদিন পর দায়িত্ব বুঝিয়ে দিব।” দুর্নীতির অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, তাকে হয়তো ভালো কোনো জায়গায় পদায়নের জন্যই রিলিজ করা হয়েছে।এরই মধ্যে স্বাস্থ্য বিভাগে গুঞ্জন ছড়িয়েছে, গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সাবেক কর্মকর্তা ডা. মনিরুজ্জামানকে পদোন্নতি দিয়ে বরিশালের নতুন সিভিল সার্জন করা হয়েছে। বিতর্কিত এই চিকিৎসককে নিয়ে খোদ স্বাস্থ্য বিভাগেই অস্বস্তি বিরাজ করছে। উল্লেখ্য, গত ১৪ জুলাই কর্মস্থলে অনুপস্থিতি, টেস্ট বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগে স্থানীয়দের গণআন্দোলনের মুখে ডা. মনিরুজ্জামান গৌরনদী থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছিলেন। তার অপসারণের দাবিতে উপজেলাব্যাপী মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধও হয়েছিল।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এক কর্মচারী বলেন, “ডা. মনিরুজ্জামানকে গৌরনদীর মানুষ আন্দোলন করে তাড়িয়েছে। তিনি যদি এখানে সিভিল সার্জন হয়ে আসেন, তবে গোটা অফিসই অনিয়মে গিলে খাবে।”বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক (সদ্য অবসরে যাওয়া) ডা. শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, “মন্ত্রণালয় যাঁকে সিভিল সার্জন করে পাঠিয়েছে, তারা বুঝেশুনেই দিয়েছেন। এ বিষয়ে বর্তমান দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলাই শ্রেয়।” ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. লোকমান হাকিমের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।বরিশালবাসী ও সেবাগ্রহীতাদের দাবি, বারবার বিতর্কিত কর্মকর্তাদের পদায়ন না করে একজন দক্ষ ও দুর্নীতিমুক্ত কর্মকর্তাকে সিভিল সার্জন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হোক, যাতে সাধারণ মানুষ হয়রানিমুক্ত স্বাস্থ্যসেবা পেতে পারে।/
রাজনীতি
বরিশালে সিভিল সার্জনের ‘স্ট্যান্ড রিলিজ’, নতুনকে নিয়ে বিতর্ক

শেয়ার করুন







