পর্তুগালের সঙ্গে গোলশূন্য ড্র করে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশ নিশ্চিত করেছে কলম্বিয়া। তবে গ্রুপ কে’র আসল গল্পটি লেখা হয়েছে আটলান্টায়, যেখানে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ৩-১ গোলের জয়ে ইতিহাস গড়ে নকআউটের টিকিট কেটেছে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো)। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েও ইয়োনে উইসার দুর্দান্ত জোড়া গোলে রূপকথার এক জয় তুলে নিয়েছে আফ্রিকান ‘চিতাবাঘেরা’।
ঐতিহাসিক জয়ের পর কঙ্গোকে আর অন্য কোনো ভেন্যুতে যেতে হচ্ছে না; ১ জুলাই এই আটলান্টা স্টেডিয়ামেই শেষ বত্রিশের ম্যাচে তারা মুখোমুখি হবে শক্তিশালী ইংল্যান্ডের। কঙ্গোর এই অবিশ্বাস্য অগ্রযাত্রায় বিশ্বকাপের জটিল সমীকরণে পড়ে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে গেছে এশিয়ান পরাশক্তি দক্ষিণ কোরিয়ার।
মায়ামি স্টেডিয়ামে শীর্ষে ওঠার লড়াইয়ে কলম্বিয়া ও পর্তুগাল নেমেছিল চেনা শক্তিতে। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল মেতে ওঠে তীব্র আক্রমণ-প্রতিআক্রমণে। ২২ মিনিটে কলম্বিয়ান ফরোয়ার্ড জন আরিয়াসের গোলমুখে নেওয়া শট পর্তুগিজ মিডফিল্ডার রুবেন নেভেস গোললাইন থেকে ক্লিয়ার করলে বঞ্চিত হয় কলম্বিয়া। প্রথমার্ধের ৩৯ মিনিটে পর্তুগালও সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করে; বক্সের ভেতর থেকে ব্রুনো ফের্নান্দেসের জোরাল শট চমৎকারভাবে রুখে দেন কলম্বিয়ান গোলরক্ষক কামিলো ভার্গেস। দ্বিতীয়ার্ধে দুই দলই একাধিক বদলি খেলোয়াড় নামিয়ে আক্রমণের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করে। ম্যাচের ৮৮ মিনিটে কলম্বিয়ার একটি বিপজ্জনক ক্রস গোললাইন থেকে রুবেন দিয়াসের মরিয়া হেড এবং পরবর্তীতে দিয়োগো কস্তার জোড়া সেভে ম্যাচটি গোলশূন্য ড্রতে শেষ হয়। ৩ ম্যাচে ৭ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপসেরা কলম্বিয়া, আর ৫ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে থেকে পরের পর্বে পা রাখল পর্তুগাল। কলম্বিয়া মুখোমুখি হবে ঘানার। আর পর্তুগালের প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া।
গ্রুপের অন্য ম্যাচে আটলান্টার স্টেডিয়ামে প্রথমার্ধেই বড় ধাক্কা খেয়েছিল ডিআর কঙ্গো। ম্যাচের ১০ মিনিটে এলডোর শমুরুদভের চমৎকার চিপে এগিয়ে যায় উজবেকিস্তান। ১৭ মিনিটে কঙ্গোর এমবুকুর সমতাসূচক গোলটি ভিএআরের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে বাতিল হলে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার শঙ্কায় পড়ে তারা। তবে বিরতির পর খোলনলচে বদলে যায় আফ্রিকান দলটির ফুটবল, যার সম্মুখ সমরে ছিলেন উইসা। ৬৮ মিনিটে পেনাল্টি থেকে ঠান্ডা মাথায় গোল করে কঙ্গোকে সমতায় ফেরান এই ফরোয়ার্ড।
আক্রমণের ধারাবাহিকতায় ৭৯ মিনিটে বদলি খেলোয়াড় মেসচাক এলিয়ার পাসে চমৎকার ফ্লিকে কঙ্গোকে এগিয়ে নেন ফিস্টন মায়েলে। আর ম্যাচের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে বক্সের ঠিক বাইরে থেকে উইসার দৃষ্টিনন্দন বাঁকানো শট কঙ্গোর ৩-১ ব্যবধানের ঐতিহাসিক জয় নশ্চিত করে। ৩ ম্যাচে ৪ পয়েন্ট এবং প্লাস-ওয়ান গোল ব্যবধান নিয়ে টেবিলের তিনে শেষ করা ডিআর কঙ্গো সেরা তৃতীয় দল হিসেবে দাপটের সঙ্গেই পা রাখল শেষ ৩২-এ। অথচ তারা সর্বশেষ বিশ্বকাপ খেলেছে ৫২ বছর আগে।








