রাজধানীতে গতকাল শনিবার গভীর রাত থেকে আজ রোববার ভোর পর্যন্ত বৃষ্টি চলেছে। ভোর থেকে শুরু হয় মুষলধারে বৃষ্টি। সকাল সাতটা পর্যন্ত অঝোরে বৃষ্টি ঝরেছে।

আর এই বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার রাস্তায় পানি জমেছে। সকাল সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর গ্রিনরোড, তেজতুরী বাজার, পান্থপথ, মণিপুর, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা, ধানমন্ডি ২৭, ধানমন্ডি ৩২, মোহাম্মদপুর, বিজয়নগরসহ বিভিন্ন এলাকায় রাস্তায় কোথাও হাঁটু, কোথাও কোমরসমান পানি দেখা গেছে।

শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম জানান, বৃষ্টিতে মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ শেওড়াপাড়া শাখা-৩, এর সামনের প্রধান সড়ক ও আশপাশের অলিগলি পানিতে ডুবে গেছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলছে। এই পরিস্থিতিতে সকালে শিক্ষার্থীদের স্কুলে পাঠানো নিয়ে অভিভাবকেরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। তাঁরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষকসহ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে আজকের পরীক্ষা স্থগিত করার অনুরোধ জানান। পরে কর্তৃপক্ষ শেওড়াপাড়া শাখা তিন এর সব পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করে।

ক্রিসেন্ট রোড এলাকার বাসিন্দা শামিমা নাসরিন জানান, সেখানে রাস্তায় কোমরসমান পানি জমেছে।
সংবাদকর্মী পার্থ শংকর সাহা বলেন, রাস্তায় পানি জমে থাকায় মণিপুরী পাড়া থেকে আসাদগেট হয়ে কারওয়ান বাজারে তিনি ৪০০ টাকা ভাড়া দিয়ে এসেছেন। মণিপুরী পাড়ার ভেতরের গলিতেও পানি জমে গেছে বলে তিনি জানান। সাধারণত এসব রাস্তায় পানি জমে না।
রাজধানীতে ৬ ঘন্টায় ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টি
সকালে কারওয়ান বাজারে কর্মস্থলে আসার পথে বিপত্তিতে পড়েন সাংবাদিক অনিন্দ্য সাইমুম। সাড়ে ৬টার দিকে তিনি আদাবর থেকে রওনা দেন। মোহাম্মদপুর থানার সামনে, ধানমন্ডি ২৭ নম্বর, ৩২ এর পেছনে রাস্তায় প্রায় হাঁটুপানি জমে যায়। এই পানি পার হয়ে বৃষ্টিতে ভিজে কর্মস্থলে এসেছেন তিনি।
কলাবাগান থেকে কর্মস্থল কারওয়ান বাজারে আসার পথে ভোগান্তিতে পড়েন আরেক সংবাদকর্মী জিনিয়া চৌধুরী। পৌনে সাতটার দিকে রাজধানীর গ্রিনরোড, পান্থপথের রাস্তায় হাঁটুপানি জমে থাকতে দেখেছেন তিনি। কলাবাগানের ভেতরের রাস্তাগুলোতেও হাঁটুপানি জমেছে। এসব রাস্তায় সাধারণত পানি জমে না বলে তিনি জানান।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. তরিকুল নেওয়াজ কবীর আজ সকাল পৌনে আটটার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, রাজধানীতে সর্বশেষ ছয় ঘন্টায় অর্থাৎ গতকাল রাত ১২টা থেকে আজ সকাল ছয়টা পর্যন্ত ৭৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। চলতি মাসে এতটা বৃষ্টির রাজধানীতে এই সময়ে হয়নি।।








