স্বামী এহানুল হককে মাদক ব্যবসায় বারণ করেছিলেন সুফিয়া বেগম। এহানুল শোনেননি। বরং মনে ক্ষোভ পুষে রেখেছিলেন। বুধবার রাতে সেই ক্ষোভ ঝাড়লেন স্ত্রী সুফিয়া ও শিশুপুত্র সমিনকে (৮) হত্যা করে। আরেক পুত্র বাপ্পি গুরুতর আহত। বুধবার রাতে কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে (বি-৬ ব্লক) এই হত্যাকাণ্ড ঘটে।

পুলিশের ভাষ্য, সুফিয়া ও সমিন ঘটনাস্থলেই মারা যায়। গুরুতর আহত বাপ্পিকে প্রথমে আশ্রয়শিবিরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে বৃহস্পতিবার ভোরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এহানুল ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এ ব্যবসা ছেড়ে দেওয়ার জন্য স্ত্রী তাকে চাপ দিচ্ছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ চলছিল। কয়েকদিন আগে স্ত্রী পুলিশের কাছে মাদক কারবারের তথ্য দেওয়ার হুমকি দিলে এহানুল তাকে মারধর করেন।

স্থানীয় রোহিঙ্গা নেতা আমির হোসেন বলেন, গভীর রাতে প্রথমে স্ত্রীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন এহানুল। পরে দুই শিশু চিৎকার শুরু করলে তাদেরও কোপানো হয়। প্রতিবেশীরা এগিয়ে এলে তিনি পালিয়ে যান।

উখিয়া থানার ওসি মুজিবুল হক বলেন, ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত এহানুল পালিয়ে গেছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে। মা-ছেলের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।