সংবিধানে গণভোটের কোনো প্রভিশন নেই—সরকারি দলের এমন যুক্তি প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান বলেছেন, সংবিধানের মধ্যে যদি গণভোটের কোনো প্রভিশন না থাকে, তাহলে ২০২৬ সালেও কোনো নির্বাচন নেই। সংবিধান অনুযায়ী ২০২৬ সালে নির্বাচন হওয়ার কথা নয়, সেই নির্বাচন হওয়ার কথা ২০২৯ সালে।
আজ সোমবার রাতে জাতীয় সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন শফিকুর রহমান।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী গণভোটে ‘হ্যাঁ’–এর পক্ষে ভোট দিতে বলেছেন; বিরোধী দলও তা–ই বলেছে। এখনকার সরকারি দলও ওয়াদা দিয়েছিল, গণভোটে হ্যাঁ বিজয়ী হলে জনগণের রায় বাস্তবায়ন করা হবে। গণভোটের রায় অনুযায়ী দুটি শপথ নেওয়ার কথা—একটি সংসদ সদস্যের শপথ, অন্যটি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ। বিরোধী দলের ৭৭ জন সংসদ সদস্য দুটি শপথ নিলেও সরকারি দল শুধু সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘জনগণের উইল হচ্ছে সুপ্রিম ল (জনগণের অভিপ্রায় হচ্ছে সর্বোচ্চ আইন)। জনগণ চেয়েছে, এ জন্য ফ্যাসিস্ট সরকারকে জনগণ বিদায় দিয়েছে। কোনো সংবিধানের আলোকে বিদায় নেয়নি। সেই সরকার বিদায় নেওয়ার পরে জনগণের অভিপ্রায়ে একটি সরকার গঠন হয়েছিল এবং সেই সরকারের জারি করা আদেশের আলোকেই গণভোট এবং সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন গোশত হালাল আর ঝোল হারাম। একটা যদি হালাল হয়, আরেকটা হারাম হয় কীভাবে?’
জামায়াত আমির বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী এখন কোনো সরকারি দল নেই, পালিয়ে গেছে। সংবিধান অনুযায়ী এখন কোনো বিরোধী দলও নেই, সেটাও পালিয়ে গেছে। আপনি সংসদ মানবেন, সরকার মানবেন, জনগণের অভিপ্রায়ের এক অংশ মানবেন, আরেক অংশ মানবেন না। গণভোটকে অস্বীকার করবেন (আর) বলবেন, ৫১ ভাগ মানুষ আমাদেরকে ভোট দিয়েছে। তো ৬৮ দশমিক ৬ পার্সেন্ট (শতাংশ) মানুষ যে গণভোটে “হ্যাঁ” বলেছে? ৫১ ভাগ বড় না ওইটা (৬৮ দশমিক ৬ ভাগ) বড়?’
জাতীয় নির্বাচনে সরকার গঠনের জন্য দেওয়া ৫১ ভাগ ভোট বাস্তবায়ন হয়েছে উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘আমাদের অনেক রিজার্ভেশন (আপত্তি) থাকা সত্ত্বেও আমরা মেনে নিয়েছি। শান্তি–শৃঙ্খলার স্বার্থে, গণতান্ত্রিক ধারা ফিরে আসুক, সেই স্বার্থে। তাহলে বেশির ভাগ জনগণের অভিপ্রায়কে আমরা অস্বীকার করব কীভাবে? আমরা জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে চাই না।’
এ সময় গণভোটের রায় বাস্তবায়নের জন্য সংসদের ভেতরে ও রাজপথে লড়ে যাওয়ার কথা বলেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আমাদের লড়াই চলবে। আমরা বিশ্বাস করি, কখনো কোনো জনপদে জনগণের অভিপ্রায় বা রায় কখনো বৃথা যায় না। সেটাই শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে, ইনশা আল্লাহ।’
বিরোধীদলীয় নেতা আরও বলেন, ‘১৮ কোটি মানুষের রায়, স্বার্থ, অধিকার উপেক্ষিত হবে আর বিরোধী দল বসে বসে সংসদের ভেতরে সমর্থন দিবে, সেই বিরোধী দল আমরা নই। ভালো কিছু হলে অবশ্যই সমর্থন দেব। কিন্তু জনস্বার্থ বিঘ্নিত হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে আমরা রুখে দাঁড়াব। আজকের এই ওয়াকআউট তারই অংশ।’
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, ‘চুরানব্বই সালে আমরা অনুরোধ করেছিলাম কেয়ারটেকার (তত্ত্বাবধায়ক) সরকার বাস্তবায়ন করার জন্য। তখনকার সরকার এটা আমলে নেয় নাই। আমরা আন্দোলন করেছি। সংসদের ভেতরে করেছি, বাইরে করেছি। শেষ পর্যন্ত ওই সরকার আরেকটা পার্লামেন্ট গঠন করে একটামাত্র বিল পাস করে বিদায় নিয়েছিল। সেই বিলটা ছিল কেয়ারটেকার সরকারের বিল।’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা চাই না, পাঁচ বছর পরে সরকার এটা করুক। আমরা চাই, সরকার তাদের দেওয়া ওয়াদায় ফিরে আসুক। জনগণকে সম্মান করুক। অবিলম্বে তা বাস্তবায়ন করুক। জনগণ এখন যে একটা অস্বস্তির মধ্যে আছে, সরকারি দলেরই দায়িত্ব হচ্ছে জনগণকে অস্বস্তি থেকে মুক্তি দেওয়া। আমরা সেটাই তাদের কাছে চাই।’
এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে সব সময় সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং গণভোটের রায় মেনে নিতে সরকারের কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে সরকারি দল সংবিধান সংস্কার না করে সংশোধনের জন্য একটি কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিল। আজকে সংসদে সরকারি দলের পক্ষ থেকে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। সেই কমিটিতে নৈতিক সমর্থন নেই বলে বিরোধী দল সংসদ থেকে ওয়াকআউট করেছে।
সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি, বিরোধী দলের প্রত্যাখ্যান, ওয়াকআউট







