পাবনার সাঁথিয়ায় এক বুদ্ধি ও বাকপ্রতিবন্ধী নারীকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে মহব্বত আলী খাঁ নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ৮ জুলাই উপজেলার গৌরীগ্রাম ইউনিয়নের হারিয়াকাহন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মহব্বত একই গ্রামের তায়জাল খাঁর ছেলে।
এ অপরাধের বিষয়টি পুলিশকে না জানিয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে গ্রাম্য সালিশে মহব্বতকে ২০ বার জুতাপেটার মাধ্যমে মীমাংসার অভিযোগ উঠেছে। এমন গুরুতর অভিযোগের আইনি ব্যবস্থা না নিয়ে সালিশের মাধ্যমে নিষ্পত্তির বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও প্রকাশের পর এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।
এ বিষয়ে সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান জানান, ভিকটিমের বড় ভাই বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এ বিষয়ে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিজু তামান্না বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন অনুযায়ী ধর্ষণ বা ধর্ষণচেষ্টা একটি গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ। দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী, এ ধরনের অপরাধের বিচার গ্রাম্য সালিশে করার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, আইন অমান্য করে চেয়ারম্যান ও অন্যরা কেন এটি করলেন, তা জানতে চেয়ারম্যানকে ডাকা হয়েছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগী পরিবারটি যাতে সঠিক বিচার পায়, তা নিশ্চিত করা হবে। তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে ওসিকে খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
জানা যায়, ঘটনার দিন ভিকটিমকে বাড়িতে একা রেখে তার মা পাশের এক বাড়িতে যান। এ সুযোগে মহব্বত ঘরে ঢুকে ভিকটিমকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। তখন ওই নারীর গোঙানি ও চিৎকারে তার মা ও প্রতিবেশীরা ছুটে এলে মহব্বত পালিয়ে যান।
অভিযোগ, ঘটনাটি পুলিশকে না জানিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা চার দিন ধরে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চালান। ১২ জুলাই এ বিষয়ে এক গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করা হয়। সালিশে অপরাধ স্বীকার করায় অভিযুক্তকে শাস্তি হিসাবে ২০টি জুতাপেটার রায় হয়। এরপর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগ রয়েছে, মহব্বত আগে দুই জায়গায় একই অপরাধ করেছে।








