সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) প্রশাসনিক আমলাদের পরিবর্তে দেশি-বিদেশি পরিবহন বিশেষজ্ঞ ও আন্তর্জাতিক সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে পরিচালনার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।
একই সঙ্গে প্রযুক্তিনির্ভর সড়ক ব্যবস্থাপনা, ই-প্রসিকিউশন চালু এবং যাত্রী সচেতনতা বৃদ্ধিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ারও আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, প্রতিবছর হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি রোধে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ও বিআরটিএকে কেবল প্রশাসনিক আমলাদের মাধ্যমে নয়, দেশি-বিদেশি পরিবহন বিশেষজ্ঞ এবং আন্তর্জাতিক সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে পরিচালনার উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি প্রযুক্তির মাধ্যমে সড়ক নিয়ন্ত্রণ, ই-প্রসিকিউশন ব্যবস্থা চালু এবং যাত্রী সচেতনতা বৃদ্ধিতে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত জুন মাসে দেশে ৫৩২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪৬৩ জন নিহত এবং ১ হাজার ৩২৩ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে রেলপথে ৫৩টি দুর্ঘটনায় ৪৫ জন নিহত ও ৮ জন আহত এবং নৌপথে ৫টি দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত ও ৫ জন আহত হয়েছেন। ফলে সড়ক, রেল ও নৌপথ মিলিয়ে এক মাসে ৫৯০টি দুর্ঘটনায় মোট ৫১৩ জন নিহত এবং ১ হাজার ৩৩৬ জন আহত হয়েছেন।
যাত্রী কল্যাণ সমিতির দুর্ঘটনা মনিটরিং সেল দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে এ প্রতিবেদন তৈরি করেছে। সংগঠনটির দাবি, প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে, কারণ সব দুর্ঘটনার তথ্য গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয় না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুন মাসে ১৭২টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৭৩ জন নিহত ও ১৩২ জন আহত হয়েছেন। মোট সড়ক দুর্ঘটনার ৩২ দশমিক ৩৩ শতাংশই ছিল মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা
বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে। সেখানে ১২৮টি দুর্ঘটনায় ১২৬ জন নিহত এবং ৩৭৩ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে ময়মনসিংহ বিভাগে, যেখানে ২৫টি দুর্ঘটনায় ২৬ জন নিহত ও ৩৫ জন আহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ১১৬ জন চালক, ৮২ জন পথচারী, ৮৭ জন শিক্ষার্থী, ৫২ জন নারী, ৫৫ জন শিশু, ২৯ জন পরিবহন শ্রমিক এবং ২২ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১১১ জন চালক, ৭১ জন পথচারী, ৬০ জন শিক্ষার্থী, ৪৭ জন শিশু ও ৪৫ জন নারী ছিলেন।
সংগঠনটির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনায় জড়িত ৭৯৫টি যানবাহনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ছিল মোটরসাইকেল, ট্রাক, পিকআপ, কাভার্ডভ্যান, লরি ও বাস। আর দুর্ঘটনার ৪৩ দশমিক ২৩ শতাংশ ঘটেছে মুখোমুখি সংঘর্ষে এবং ২৭ দশমিক ৬৩ শতাংশ গাড়ির চাপা বা ধাক্কায়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, জাতীয় মহাসড়কে মোটরসাইকেল ও ব্যাটারিচালিত যানবাহনের অবাধ চলাচল, রোড সাইন ও সড়কবাতির ঘাটতি, মিডিয়ান না থাকা, সড়কের নির্মাণত্রুটি, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যানবাহন, বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানো এবং বর্ষায় সড়কের গর্ত—এসব কারণে দুর্ঘটনা বাড়ছে।
তিনি বলেন, আধুনিক বাস নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, প্রযুক্তিনির্ভর ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা চালু, চালকদের মানসম্মত প্রশিক্ষণ নিশ্চিত, জাতীয় মহাসড়কে সার্ভিস লেন ও ফুটপাত নির্মাণ, নিয়মিত রোড সেফটি অডিট, ফিটনেস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং পরিবহন খাতে মালিক-শ্রমিক সংগঠনের একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ কমাতে কার্যকর সংস্কার জরুরি।
এমইউ/এমআইএইচএস








