জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, গতকাল শিক্ষার্থীদের ওপর লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপে করা হয়েছে। আর একটি শিক্ষার্থীর গায়েও যেন লাঠি বা বুটের আঘাত না পড়ে। কাউকে যেন গ্রেফতার না করা হয়। সরকারের উচিত অহংকারী মনোভাব ও গোয়ার্তুমি বাদ দিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংলাপে বসে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা। তা না হলে এ শিক্ষার্থীদের হাত ধরেই সরকারের পতন ত্বরান্বিত হবে।

বুধবার (১৫ জুলাই) দুপুরে বগুড়ার নামাজগড় আঞ্জুমান-ই-গোরস্তানে জুলাই আন্দোলনে শহীদ রাতুল, শহীদ সিয়াম শুভ ও শহীদ শিমুলের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় দেশের স্বাধীনতা ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে শহীদ হওয়া ওসমান হাদীসহ সকল শহীদের আত্মত্যাগকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

সারাদেশে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন ও শিক্ষা সংস্কারের দাবি প্রসঙ্গে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, কতটুকু কষ্টে থাকলে পরীক্ষার হল ছেড়ে একজন শিক্ষার্থী রাজপথে চলে যায়। ২০১৮ বা ২০২৪ সালের আন্দোলন ছিল কর্মসংস্থানের জন্য, আর এখনকার আন্দোলন শিক্ষা সংস্কারের জন্য। একে নিছক ছোটোখাটো আন্দোলন হিসেবে না দেখে শিক্ষা সংস্কার আন্দোলন হিসেবে দেখতে হবে। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর ব্যর্থতা থাকলে তাকে পদত্যাগ করিয়ে ছাত্রসমাজের কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কের ঘাটতির কথা উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সরকার ভারতের সঙ্গে সেই ধরনের ডিপ্লোমেসির সক্ষমতা হারিয়েছে, যার কারণে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে পারছে না। আমরা অতীতে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের ফেরত দিয়েছি। তাহলে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া সন্ত্রাসীদের ভারত কেন ফেরত দিচ্ছে না? সরকার ভারতের সঙ্গে সমঝোতা করার কারণেই শেখ হাসিনাকে আনতে পারছে না এবং এ জায়গায় সরকার চরমভাবে ব্যর্থ। ইনশাআল্লাহ, আমরা ক্ষমতায় আরোহণ করে শেখ হাসিনাকে বাংলার মাটিতে এনে বিচার করব।

এসময় এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেন, আমরা বর্তমান বিএনপি সরকারকে দেখছি যে, সংসদে দাঁড়িয়ে তারা গণভোটের রায়ের বিপক্ষে কথা বলছে, জুলাই সনদের বিপক্ষে কথা বলছে। অথচ তাদের নিজেদের ৩১ দফাতেই সংবিধান ও গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয়ের সংস্কারের কথা ছিল। এখন তারা সংসদে দাঁড়িয়ে কীসের সংবিধান সংস্কার পরিষদ বলে প্রশ্ন তুলছে। আমরা মনে করি, এটি জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষার সঙ্গে, আমার শহীদ ভাইদের ত্যাগের সঙ্গে গাদ্দারি ও প্রতারণা।

সারজিস আলম বলেন, এ ধরনের প্রতারণা করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে কেউ আগামীতে কোনোদিন প্রাসঙ্গিক থাকতে পারবে না। বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনগুলো আমাদের অভ্যুত্থানের সহযোদ্ধা ছিল। তারা যেন ইনসাফের পক্ষে থাকে। তারা যদি বিচ্যুত হয়, তবে আমরা আমাদের লড়াই শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যাব।

তিনি বলেন, বিএনপির অঙ্গসংগঠনগুলো আমাদের বিরুদ্ধে মিছিল করছে, অবাঞ্ছিত ঘোষণা করছে; অথচ খুনি আবু সাইদ খানকে গ্রেফতারের দাবি একবারও মুখে উচ্চারণ করেনি। উল্টো খুনি আবু সাইদ ভয়েস মেসেজ দিয়ে শিমুল বিশ্বাসকে নিরপরাধ দাবি করছে। এই লিংকটা কোথায়, তা জনগণ বোঝে। পিছন থেকে যে-ই খুনিদের শেল্টার দিক না কেন, আমরা তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে কথা বলব।

কবর জিয়ারত ও দোয়া অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় অঙ্গ-সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

এল.বি/কেএইচকে/জেআইএম