নাটোর সদরের লালমনিপুর গ্রামের প্রায় দেড় কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা বছরের পর বছর সংস্কার না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। জনপ্রতিনিধি ও সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার আবেদন করেও কার্যকর উদ্যোগ না পেয়ে শেষ পর্যন্ত নিজেদের অর্থ ও শ্রমে রাস্তা সংস্কারে নেমেছেন গ্রামবাসী।
সোমবার (২০ জুলাই) সকাল থেকে গ্রামের প্রায় ৫০ জন বাসিন্দা স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা সংস্কারের কাজ শুরু করেন। গ্রামবাসীর চাঁদায় সংগৃহীত অর্থে কেনা ইট, সুরকি ও বালু দিয়ে রাস্তাটি চলাচল উপযোগী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
স্থানীয়রা জানান, লালমনিপুর গ্রামের এই রাস্তাটি এলাকার মানুষের যাতায়াত, শিক্ষা, কৃষি ও স্থানীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাটি কাদা ও পানিতে তলিয়ে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। জরুরি চিকিৎসার জন্য রোগী হাসপাতালে নেওয়াও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।

তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরে রাস্তা সংস্কারের দাবি জানানো হলেও আশ্বাস ছাড়া বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি। ফলে বাধ্য হয়ে গ্রামের মানুষ নিজেরাই উদ্যোগ নেন।
গ্রামবাসীর দেওয়া প্রায় এক লাখ টাকা দিয়ে ইট, সুরকি ও বালু সংগ্রহ করা হয়। পরে গ্রামের তরুণরা হাঁটুসমান কাদা মাড়িয়ে দিনভর পরিশ্রম করে রাস্তায় ইট বিছিয়ে সেটিকে সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করে তোলেন।
স্থানীয় বাসিন্দা শাকিল বলেন, জনগণের ট্যাক্সের টাকায় টেকসই অবকাঠামো হওয়ার কথা। কিন্তু আমাদের গ্রামে বছরের পর বছর কোনো উন্নয়ন হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে নিজেদের টাকায় অন্তত চলাচলের মতো একটি রাস্তা তৈরি করছি।
স্থানীয় তরুণ যুবক জাহিদ মেহেদী বললেন, এলাকার তরুণদের স্বেচ্ছাশ্রম ও এলাকাবাসীর যৌথ উদ্যোগে সাময়িক চলাচলের একটা পথ তৈরি হয়েছে। অন্তত বৃষ্টিতে কাদা থেকে এখন কিছুটা স্বস্তি মিলবে। অনেক দপ্তরে বার বার গিয়েও কোনো সুফল মিলেনি। তাই নিজের অর্থ ও শ্রমে ইট পেরে রাস্তাটি চলাচলে উপযোগী করা হয়েছে।
নাটোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মো. আজাহার আলী বলেন, এলাকাবাসীর এ চমৎকার উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানাই। এ সংস্কার কাজ শেষ করতে উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতার প্রয়োজন হলে তা করা হবে।
রেজাউল করিম রেজা/কেএইচকে/জেআইএম








