নিরাপদ সড়ক, জলবায়ু সচেতনতা এবং পরিচ্ছন্ন পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘সড়কসাথী’ প্রকল্পের তৃতীয় কর্মশালা গত ২৫ জুন রাজধানীর রায়েরবাজার উচ্চ বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির প্রায় ৬০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
পরিবেশ রক্ষার আন্দোলনে সক্রিয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘একুইমেন হ্যাভেন’ এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ কর্মশালাটি সঞ্চালনা করেন সংস্থাটির ফেলো আফরোজা আক্তার তৃষা।
‘ওয়ার্ক ফর আ বেটার বাংলাদেশ’ নামের একটি এন জি ও-র স্বেচ্ছাসেবী প্রমা সাহা ও নাইমা ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে অংশ নেন ইউনিভার্সিটি অফ এশিয়া প্যাসিফিকের ট্রান্সপোর্ট ইঞ্জিনিয়ারিং ক্লাবের দুই সদস্য মাহিম ও মাশরুফ।

অনুষ্ঠানের সূচনা হয় রায়ের বাজার উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেরুন নেসা-র উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে। শিক্ষকদের সাথে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রান্সপোর্ট প্রফেশনালস ফাউন্ডেশন, বাংলাদেশ (টিপিএফবি)- এর সাংগঠনিক সম্পাদক প্রকৌশলী কাজী মনজুর করিম মিতুল।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন টিপিএফবি-এর ট্রেজারার আমিন উজ জামান মাদানী (তার প্রতিষ্ঠান রেডকন-এর পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের কুইজ ও গেমস জেতার পুরস্কার হিসেবে বই প্রদান করা হয়)।
আয়োজক ও অতিথিরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রাণবন্তভাবে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন কুইজ ও ইন্টারেক্টিভ গেমে অংশগ্রহণ করেন, যা পুরো আয়োজনকে আরও উপভোগ্য করে তোলে এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।
কর্মশালায় শিক্ষার্থীদের জন্য উপযোগী অডিও-ভিজ্যুয়াল অ্যানিমেশন কনটেন্ট উপস্থাপন করা হয়, যা তাদের মধ্যে সচেতনতা ও ইতিবাচক মনোভাব গড়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন।

মূলত ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মাঝে পরিবেশ রক্ষার প্রণোদনা সৃষ্টি এবং সড়কে নিরাপদভাবে চলাচলের বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি ছিল এই ‘সড়ক সাথী’ প্রকল্পের উদ্দেশ্য, যার অধীনে বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে কর্মশালা আয়োজিত হবে বলে সংশ্লিষ্ট সবার প্রত্যাশা।
এই কর্মশালায় সহজ ভাষায় তুলে ধরা হয়- ১. দৈনন্দিন আবহাওয়া ও দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ুর পার্থক্য। ২. অতিরিক্ত গ্রিনহাউস গ্যাস বৃদ্ধির ফলে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাব। ৩. ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমে পরিবেশ রক্ষার উপায়। ৪. যানজট কমিয়ে জ্বালানি সাশ্রয় ও কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের গুরুত্ব। ৫. জেব্রা ক্রসিং, ফুটওভার ব্রিজ ও ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা। ৬. স্বল্প দূরত্বে হাঁটা বা সাইকেল ব্যবহারের মাধ্যমে কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমানো। ৭. রাস্তা পরিষ্কার রাখতে ডাস্টবিন ব্যবহারের অভ্যাস।

এই কর্মশালার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পরিবেশ সংরক্ষণে ট্রাফিক আইন মেনে চলার মতো ছোট ছোট পদক্ষেপের গুরুত্ব অনুধাবন করতে সক্ষম হয়।
আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এ ধরনের কর্মশালার আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্কুলের প্রতিটি শিক্ষার্থীর মাঝে এ শিক্ষা ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্যে একিউমেন হ্যাভেন-এর সহযোগিতায় শিক্ষার্থী ও পেশাজীবিদের সমন্বয়ে ‘ক্লাইমেট ফাইটিং ক্লাব’ গঠন করা হবে, যা তরুণদের মাধ্যমে পৃথিবীকে অতিরিক্ত উষ্ণায়ন ও দূষণ থেকে রক্ষা করবে।
এমআরএম








