ঢাকার কেরানীগঞ্জে সড়কের ওপর ময়লা ফেলতে গিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) হাতে ধরা পড়েছেন আনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তি। পরে তাঁকে কারাদণ্ড বা অর্থদণ্ড না দিয়ে শাস্তিস্বরূপ নিজের খরচে ময়লার স্তূপ অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়।

আজ সোমবার সকালে কেরানীগঞ্জ উপজেলার কদমতলী গোলচত্বর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ সময় সড়কে যত্রতত্র ময়লা ফেলা বন্ধে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করছিলেন ইউএনও।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে সড়কে অবাধে ময়লা ফেলা বন্ধে সম্প্রতি নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ইউএনও উমর ফারুক বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন। একপর্যায়ে কদমতলী গোলচত্বর এলাকায় আনোয়ার হোসেনকে (৫৫) সড়কের ওপর ময়লা ফেলতে দেখে তাঁকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হয়। ওই ব্যক্তির বয়স বিবেচনায় কারাদণ্ড বা জরিমানা না করে নিজের খরচে সড়ক থেকে ময়লার স্তূপ অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইউএনও বলেন, সড়কে যত্রতত্র ময়লা ফেলা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না। পরিচ্ছন্ন কেরানীগঞ্জ গড়ে তুলতে উপজেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেট, থানা–পুলিশ, গ্রাম পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিয়মিত নজরদারি চালিয়ে যাবেন। ‘ক্লিন কেরানীগঞ্জ, গ্রিন কেরানীগঞ্জ’ গড়ে তুলতে সব শ্রেণি–পেশার মানুষের সচেতন অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা প্রয়োজন

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে কেরানীগঞ্জের কদমতলী গোলচত্বর, শুভাঢ্যা বেগুনবাড়ি, শুভাঢ্যা নাজিরেরবাগ, বন্দডাকপাড়া, আগানগর ও জিনজিরা এলাকার প্রধান সড়কে যত্রতত্র ময়লা ফেলে স্তূপ তৈরি করা হচ্ছে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি পথচারীদের চলাচলেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে।

ময়লা–আবর্জনামুক্ত কেরানীগঞ্জ গড়তে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একাধিকবার সচেতনতামূলক প্রচারণা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান চালানো হলেও অনেকেই তা উপেক্ষা করেন। এ পরিস্থিতিতে প্রশাসন এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার ঢাকা জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম কেরানীগঞ্জকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে স্থানীয় বাসিন্দাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। সেই সঙ্গে উপজেলা প্রশাসনকে পরিচ্ছন্নতা অভিযান আরও জোরদার করার নির্দেশ দেন।