পাবনার সাঁথিয়া পৌরসভায় বিশুদ্ধ পানি সরবরাহের লক্ষ্যে নির্মিত একটি পানি শোধনাগার গত পাঁচ বছর ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। প্রায় পৌনে আট কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই প্রকল্পটির সুফল পাচ্ছেন না পৌরবাসী। পৌর কর্তৃপক্ষের দাবি, শোধনাগারটির পানি ধারণক্ষমতা চাহিদার তুলনায় অনেক কম হওয়ায় এটি পরিচালনা করা আর্থিকভাবে অলাভজনক ও অবাস্তব হয়ে দাঁড়িয়েছে।পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর (ডিপিএইচই) সাত কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয়ে এই প্রকল্পটির কাজ শুরু করে। প্রকল্পের আওতায় গভীর নলকূপ, শোধনাগার ও ওভারহেড ট্যাংক স্থাপন করা হয়। ২০২১ সালে অবকাঠামোর কাজ শেষে এটি পৌরসভার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল।সাঁথিয়া পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী মো. আবু ইসহাক শফিউল আজম জানান, এই শোধনাগারটি প্রতিদিন সর্বোচ্চ ২ লাখ ৫০ হাজার লিটার পানি শোধন করতে পারে। অথচ পৌরসভায় বর্তমানে পানির দৈনিক চাহিদা সাড়ে আট থেকে ৯ লাখ লিটার। তিনি বলেন, ‘সক্ষমতা কম হওয়ায় এটি দিয়ে চাহিদা মেটানো সম্ভব নয়। শোধনাগারটি চালু রাখলে দিনে মাত্র কয়েক ঘণ্টা পানি দেওয়া যাবে, বাকি সময় অপরিশোধিত পানি দিতে হবে-যা বাসিন্দারা গ্রহণ করবেন না।’পৌরসভা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শোধনাগারটি চালু রাখতে প্রতি মাসে কমপক্ষে পাঁচ লাখ টাকা খরচ হয়, কিন্তু এটি দিয়ে চাহিদার মাত্র ৩০-৩৫ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব। এর চেয়ে কম খরচে গভীর নলকূপের মাধ্যমে সরাসরি পানি সরবরাহ করা অনেক সহজ ও সাশ্রয়ী। সে কারণেই চালুর কিছু দিন পরই এটি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এই আধুনিক স্থাপনা কাজে না আসায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সাঁথিয়ার বাসিন্দা অ্যাডভোকেট গোলাম মোস্তফা বলেন, ‘পরিকল্পনার অভাবে কোটি কোটি টাকার অবকাঠামো নষ্ট হচ্ছে, অথচ আমরা বিশুদ্ধ পানি পাচ্ছি না।’বীর মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল করিম বিষয়টিকে সরকারি অর্থের অপচয় হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বড় প্রকল্প গ্রহণের আগে সম্ভাব্যতা যাচাই করা জরুরি ছিল।বর্তমানে ২৫ দশমিক ৫৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের সাঁথিয়া পৌরসভায় প্রায় ৬৫ হাজার মানুষের বসবাস। এর মধ্যে মাত্র ১ হাজার ১৫০টি পরিবার পাইপলাইনের পানির আওতায় রয়েছে। যথাযথ পরিকল্পনার অভাবে নির্মিত এই শোধনাগারটি এখন মুখ থুবড়ে পড়ে আছে।
রাজনীতি
সাড়ে ৭ কোটি টাকার পানি শোধনাগার ৫ বছর ধরে পরিত্যক্ত

শেয়ার করুন







