সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, মানসিক সুস্থতা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনধারার মাধ্যমে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিসসহ অধিকাংশ দীর্ঘমেয়াদি অসংক্রামক রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সম্ভব বলে মত দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলেছেন, চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা ও স্বাস্থ্যশিক্ষার ওপর গুরুত্ব বাড়াতে হবে। শনিবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশে (কেআইবি) ‘সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনধারা : রোগমুক্ত সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি’ শীর্ষক স্বাস্থ্য সেমিনারে তারা এসব কথা বলেন। দেশের মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিরোধভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্ব তুলে ধরতে সেমিনারের আয়োজন করে আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টার।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত (জার্মানি), জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ও সাবেক সিনিয়র সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া, ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ-সদস্য ব্যারিস্টার মীর আরমান বিন কাশেম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সাবেক সচিব ও স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারপারসন শিশ হায়দার চৌধুরী, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. শাহজাহান খান এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)-এর চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রিয়াজুল ইসলাম। এছাড়া বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, চিকিৎসক, গবেষক, স্বাস্থ্যসেবা-সংশ্লিষ্ট পেশাজীবী, ব্যবসায়ী, উদ্যোক্তা এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এতে অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আমেরিকান ওয়েলনেস সেন্টারের চেয়ারম্যান ও সাবেক সচিব মো. মাহবুবুল হক।

সেমিনারে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশি-আমেরিকান চিকিৎসা গবেষক, ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক, ন্যাচারোপ্যাথিক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. মজিবুল হক। তিনি বলেন, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি অসংক্রামক রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন, মানসিক চাপ, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এ পরিস্থিতির অন্যতম প্রধান কারণ। তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি রোগের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে সময়মতো জীবনধারায় পরিবর্তন আনলে এসব রোগ অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের পাশাপাশি পুষ্টিবিজ্ঞান, জীবনধারা পরিবর্তন এবং সমন্বিত (ইন্টিগ্রেটিভ) চিকিৎসা পদ্ধতির সমন্বিত প্রয়োগের মাধ্যমে অনেক দীর্ঘমেয়াদি রোগ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা এবং রোগীর জীবনমান উন্নত করা সম্ভব।

অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যাপক হিসেবে যোগদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রফেসর ড. মজিবুল হককে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।