ফুটবলে জেতার কিছু বাকি নেই লিওনেল মেসির। ক্লাব ও দেশের হয়ে ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ৪৮টি শিরোপা জিতেছেন ৩৯ বছর বয়সি আর্জেন্টাইন জাদুকর। ক্লাব ফুটবলে তার প্রাপ্তির পেয়ালা অনেক আগেই উপচে পড়েছে। আর্জেন্টিনার হয়ে কিছু জিততে না পারার আক্ষেপও ঘুচে গেছে গত পাঁচ বছরে। দীর্ঘ খরার পর একে একে জিতেছেন দুটি কোপা আমেরিকা এবং একটি করে বিশ্বকাপ ও ফিনালিসিমা ট্রফি। ২০২৬ বিশ্বকাপের রবিবাসরীয় ফাইনালে আজ মেসির সামনে টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি। স্পেনকে হারিয়ে আর্জেন্টিনা বিশ্বসেরার মুকুট ধরে রাখতে পারলে আজই হয়তো আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়ে দেবেন আধুনিক ফুটবলের রাজা। হারলেও আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসিকে আর দেখার সম্ভাবনা ক্ষীণ।

অবসরের ব্যাপারে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক এখনো কিছু না জানালেও নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ জয়ের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানতে পারা মেসির জন্য হবে চক্রপূরণের মতো। এ মাঠেই ১০ বছর আগে স্বপ্নভঙ্গের বিষাদে ডুবে জাতীয় দল থেকে প্রথম অবসর নিয়েছিলেন তিনি। ২০১৪ বিশ্বকাপ ও ২০১৫ কোপা আমেরিকার ফাইনালে হারার পর খোদ আর্জেন্টাইনরা তার দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলায় মন ভেঙে গিয়েছিল মেসির। তবু শিরোপা জেতার শেষ চেষ্টা হিসাবে ২০১৬ কোপায় নিজেকে উজাড় করে দেন এই মহাতারকা। কিন্তু এবারও তীরে এসে তরী ডোবে। ২০১৬ সালের ২৬ জুন এই মেটলাইফ স্টেডিয়ামে কোপার শতবর্ষী আসরের ফাইনালে চিলির কাছে টাইব্রেকারে হারে আর্জেন্টিনা। পেনালটি মিস করায় ব্যর্থতার সব দায় চাপানো হয় মেসির কাঁধে। হতাশার শেষ সীমায় পৌঁছে আর্জেন্টিনার দুঃখী রাজপুত্র জানিয়ে দেন, ‘জাতীয় দলের হয়ে এটাই আমার শেষ ম্যাচ। দেশের হয়ে একটি শিরোপা জেতার জন্য আমি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি; কিন্তু এটা আমার জন্য নয়।’

আর্জেন্টিনার ভাগ্য ভালো যে দুনিয়া কাঁপানো সেই ঘোষণার কয়েক মাস পরই অভিমান ভুলে অবসরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন মেসি। বাকিটা ইতিহাস। মেটলাইফ যেমন তাকে কাঁদিয়েছে, তেমনি উচ্ছ্বাসেও ভাসিয়েছে। এ মাঠেই ২০১২ সালে ব্রাজিলের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মেসির হ্যাটট্রিকে ৪-৩ গোলে জিতেছিল আর্জেন্টিনা। মেটলাইফে পাঁচ ম্যাচে মেসি করেছেন চার গোল। সেই মাঠে মহানয়কের সম্ভাব্য শেষটা আজ যেমনই হোক না কেন, সর্বকালের সেরার মুকুট থাকবে মেসির মাথাতেই।