* মডেলিং, নাটক ও সিনেমা-তিনটি মাধ্যমেই সফলভাবে কাজ করছেন। এখন কোন মাধ্যমটি আপনাকে সবচেয়ে বেশি টানে?
** দর্শক আমাকে মূলত নাটকের মাধ্যমেই চিনেছেন। আবার আমার শুরুটাও হয়েছিল মডেলিং ও নাটক দিয়ে। তাই এ দুই মাধ্যমের প্রতি আলাদা ভালোবাসা রয়েছে। তবে বর্তমানে অভিনয়ের ক্ষেত্রে সিনেমাই আমাকে সবচেয়ে বেশি টানে। বড় পর্দায় দর্শকের সরাসরি প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়, যা একজন অভিনেতার জন্য অন্যরকম অনুভূতি এবং বড় প্রেরণা।
* এ মুহূর্তে কী নিয়ে ব্যস্ত আছেন?
** বর্তমানে আমার দুটি সিনেমার শুটিং চলছে। একটি ‘দুর্বার’, অন্যটি ‘শাপলা শালুক’। পাশাপাশি নির্মাতা দেবাশীষ বিশ্বাসের নতুন একটি সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়েছি। এছাড়া একটি ওটিটি প্রজেক্ট নিয়েও আলোচনা চলছে। সবকিছু চূড়ান্ত হলে দর্শকদের বিস্তারিত জানাব।
* দীর্ঘ অভিনয়জীবনে নিজেকে বারবার নতুনভাবে উপস্থাপন করেছেন। এখন চরিত্র নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন?
** দীর্ঘদিন ধরে অভিনয়ের সঙ্গে আছি। অনেক ধরনের চরিত্রই করা হয়েছে। তাই এখন এমন চরিত্র খুঁজি, যা আগে করিনি। চরিত্রটি ইতিবাচক না নেতিবাচক, সেটা বড় বিষয় নয়; আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সেটি কতটা চ্যালেঞ্জিং। নতুন চ্যালেঞ্জই আমাকে সবচেয়ে বেশি টানে। পাশাপাশি গল্প এবং নির্মাতাকেও আমি সমান গুরুত্ব দিই।
* ওটিটি প্ল্যাটফর্মের উত্থানের ফলে অভিনয় ও গল্প বলার ধরনে বড় পরিবর্তন এসেছে। এ পরিবর্তনকে কীভাবে দেখেন?
** আমি এ পরিবর্তনকে আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাই। ওটিটি আসার পর গল্প বলার ধরন এবং অভিনয়ের ভাষায় অনেক নতুনত্ব এসেছে। আমি বিশ্বাস করি, একজন শিল্পীর শেখার কোনো শেষ নেই। তাই প্রতিনিয়ত নতুন ধরনের গল্প ও অভিনয়রীতি শেখার চেষ্টা করি। আমার অভিনীত ‘পাফ ড্যাডি’, ‘ব্যাচ ২০০৩’, ‘দোলাচল’-এসব ওটিটি কাজের জন্য আলাদা প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। শুধু দেশে নয়, আন্তর্জাতিক পর্যায়েও ওটিটির ব্যাপক চাহিদা তৈরি হয়েছে।
* সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এখন একজন শিল্পীর জনপ্রিয়তায় বড় ভূমিকা রাখে। অভিনেতা হিসাবে এর ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক কীভাবে মূল্যায়ন করেন?
** বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্ল্যাটফর্ম। যদিও আমি নিজেকে এ মাধ্যমে আরও সুন্দরভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করছি। একজন অভিনেতার কাজ দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে এবং নতুন প্রজেক্টের প্রচারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিকল্প নেই। তবে নেতিবাচক দিক হলো, এখন শিল্পীর কাজের চেয়ে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বেশি আলোচনা হয়। আমার বিশ্বাস, একজন শিল্পীর ব্যক্তিগত বিষয়কে ব্যক্তিগত পর্যায়েই রাখা উচিত। মানুষের আগ্রহ থাকা উচিত তার কাজ এবং সৃষ্টিশীলতাকে ঘিরে।
* ২০২৬ সালের বাকি সময়জুড়ে আপনার লক্ষ্য কী? দর্শকদের জন্য কি চমক অপেক্ষা করছে?
** দেখতে দেখতে বছরের অর্ধেক সময় চলে গেছে। আমার প্রথম লক্ষ্য, চলমান কাজগুলো সুন্দরভাবে শেষ করা এবং এ বছরই যেন সেগুলো দর্শকের সামনে আসে। আমি মনে করি, প্রেক্ষাগৃহের প্রধান শক্তি হচ্ছে নতুন সিনেমা। তাই শুধু ঈদকে কেন্দ্র করে নয়, বছরের অন্যান্য বিশেষ সময়েও সিনেমা মুক্তি দেওয়া উচিত। আর দর্শকদের প্রতি আমার অনুরোধ থাকবে, যখনই সিনেমাগুলো মুক্তি পাবে, সময় বের করে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দেখবেন। বাংলা সিনেমার পাশে থাকবেন।
* চারদিকে এখন বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা। আপনার প্রিয় দল কোনটি?
** আমি ছোটবেলা থেকেই ব্রাজিলের সমর্থক। মূলত কিংবদন্তি পেলের প্রতি ভালোবাসা থেকেই ব্রাজিলের প্রতি এই টান তৈরি হয়েছে, যদিও তার খেলা সরাসরি দেখার সুযোগ হয়নি। ব্রাজিলের পর আর্জেন্টিনা, এরপর ফ্রান্স ও স্পেনের খেলাও ভালো লাগে। তবে আমি মনে করি, একটি দলকে সমর্থন করার অর্থ অন্য দলকে ছোট করে দেখা নয়। ফুটবলকে উপভোগ করাটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।








