শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা হলে শিক্ষার্থীদের অসচেতন ব্যবহার ও পানি অপচয়ের কারণে বারবার বিকল হচ্ছে বিশুদ্ধ খাবার পানির রিভার্স অসমোসিস (আরও) ফিল্টার। গত ২০ মাসে এটি সচল রাখতে ১৯ বার মেরামতে ব্যয় হয়েছে ২ লাখ ৫ হাজার ৫৭০ টাকা।
হল প্রশাসনের দাবি, শুধু পান করার জন্য স্থাপন করা এই ফিল্টারের পানি অনেক শিক্ষার্থী গোসল, অজু, মুখ-হাত ধোয়া, বাসন পরিষ্কার এবং রান্নার কাজেও ব্যবহার করছেন। নির্ধারিত সক্ষমতার তুলনায় অতিরিক্ত ব্যবহার করায় ফিল্টারের মেমব্রেনসহ গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
হলের ব্যয়-সংক্রান্ত নথি অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১৯ বার ফিল্টারটি মেরামত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০২৪ সালের শেষ ছয় মাসেই ১০ বার মেরামতে ব্যয় হয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ৫১০ টাকা। ২০২৫ সালে আরো আটবার সার্ভিসিং ও যন্ত্রাংশ পরিবর্তনে ব্যয় হয়েছে ৮৯ হাজার ৬০ টাকা। চলতি বছরেও ফিল্টারটির রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয় অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী (বৈদ্যুতিক) ইঞ্জিনিয়ার মো. আল মামুন বলেন, “এটি শুধু বিশুদ্ধ খাবার পানির জন্য স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু অনেক শিক্ষার্থী এই পানি দিয়ে মুখ-হাত ধোয়া, রান্নাসহ বিভিন্ন কাজ করছেন। অতিরিক্ত ব্যবহারের কারণে মেশিনের ওপর চাপ বাড়ছে এবং দ্রুত নষ্ট হচ্ছে।”
নির্বাহী প্রকৌশলী (সিভিল) মো. মুনির হোসেন বলেন, “এলাকার পানিতে আয়রনের মাত্রা তুলনামূলক বেশি। এর সঙ্গে অতিরিক্ত ব্যবহার যুক্ত হওয়ায় ফিল্টারের কার্যক্ষমতা দ্রুত কমে যাচ্ছে।”
নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ফিরোজ মাহমুদ বলেন, “হলের ব্যয় শিক্ষার্থীদের ফি থেকেই পরিচালিত হয়। ফিল্টার মেরামতে যদি বারবার লাখ লাখ টাকা ব্যয় হয়, তাহলে হলের অন্যান্য উন্নয়ন ও সেবামূলক কাজে প্রভাব পড়বে। তাই শিক্ষার্থীদের আরো দায়িত্বশীল হতে হবে।”
হল প্রশাসনের দাবি, শিক্ষার্থীরা যদি ফিল্টারের পানি শুধু পান করার কাজে ব্যবহার করেন এবং অপ্রয়োজনীয় অপচয় বন্ধ করেন, তাহলে ঘন ঘন মেরামতের প্রয়োজন হবে না। এতে যেমন হলের অর্থ সাশ্রয় হবে, তেমনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদও সুরক্ষিত থাকবে। এ জন্য শিক্ষার্থীদের সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।








