বিদেশে পাঠানোর নামে ৯১ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় মূলহোতা মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ ওরফে মো. মতিউর রহমানসহ চার আসামিকে রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। শুনানি শেষে আদালত প্রাঙ্গণে ক্ষুব্ধ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা আসামিদের ওপর হামলার চেষ্টা চালালে সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
রিমান্ডে পাঠানো অন্য তিন আসামি হলেন রাবেয়া খাতুন তানিয়া, সাইদুর রহমান ও মো. তানজির ইসলাম। আদালত তানজির ইসলামের চার দিনের এবং হারুন অর রশিদসহ বাকি তিন আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ভাটারা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. বিল্লাল ভূঁইয়া চার আসামিকে আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী গোলাম মর্তুজা ইবনে ইসলাম রিমান্ডের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আবেদন সমর্থন করেন।
শুনানিকে কেন্দ্র করে আদালত প্রাঙ্গণে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, আসামিদের আদালতে আনার সময় শিক্ষার্থীরা তাদের উদ্দেশে ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং কয়েকজন হামলার চেষ্টা করেন। রিমান্ডের আদেশ ঘোষণার পর উপস্থিত অনেক ভুক্তভোগী সন্তোষ প্রকাশ করেন।
আরও পড়ুন
রিমান্ডে নিয়ে ৭৬ চেকে সই: ডিবির সাবেক কর্মকর্তাসহ ৪ জনকে সমন
পরে পুলিশ কড়া নিরাপত্তার মধ্যে হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ও হাতকড়া পরিয়ে আসামিদের হাজতখানায় নেওয়ার সময় আবারও তাদের ওপর হামলার চেষ্টা হয়। এ সময় উত্তেজিত শিক্ষার্থীদের একটি অংশ হাজতখানার প্রধান ফটকের দিকে এগিয়ে গিয়ে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির পরিস্থিতি তৈরি হয়। পরে বাদীপক্ষের আইনজীবী রুহুল আমিন মোল্লাসহ কয়েকজনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ‘ভিসা গাইড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চার মাসের মধ্যে স্টুডেন্ট ভিসায় বিদেশে পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। পরে ‘জাস্ট থট এডুকেশন কনসালটেন্ট’ নামে আরেক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে ৯১ শিক্ষার্থীর কাছ থেকে মোট ৮ কোটি ৩৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা নেওয়া হয়। তবে, নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও কাউকে বিদেশে পাঠানো হয়নি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, শিক্ষার্থীরা যোগাযোগ করলে কখনও স্টুডেন্ট ভিসা, আবার কখনও ফ্যামিলি ভিসা প্রসেসিংয়ের আশ্বাস দিয়ে সময়ক্ষেপণ করা হয়। এক পর্যায়ে তাদের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
এ ঘটনায় গত ৮ জুলাই ভুক্তভোগী আল আমিন ভাটারা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও সাত থেকে আটজনকে আসামি করা হয়েছে।
এমডিএএ/এএমএ








