টানা বৃষ্টি আর উজানের ঢলে সিলেট বিভাগের নদ-নদীর পানি দিন দিন বাড়ছে। সুরমা, কুশিয়ারা, সারিগোয়াইন, পিয়াইনসহ প্রায় সব নদ-নদীর পানি এখন ঊর্ধ্বমুখী। তবে স্বস্তির খবর হলো, আজ বুধবার (৯ জুলাই) দুপুর পর্যন্ত সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের পর্যবেক্ষণে কোনো পয়েন্টের পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেয়া তথ্যনুযায়ী, কুশিয়ারা নদীর অমলশিদ পয়েন্টে দুপুর ১২টায় পানি সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১৩ দশমিক ৯২ মিটার, যা বিপৎসীমার কাছাকাছি। একই নদীর শেওলা পয়েন্টে দুপুরে পানি সমতল ছিল ১১ দশমিক ৪৫ মিটার। ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮৫ মিটারের বিপরীতে পানির সমতল ছিল ৯ দশমিক ৩৬ মিটার, আর শেরপুর পয়েন্টে বিপৎসীমা ৮ দশমিক ৮৫ মিটারের বিপরীতে পানির সমতল ছিল ৮ দশমিক ২৭ মিটার। সব কয়টি পয়েন্টে পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।

সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমা ১২ দশমিক ৯২ মিটারের বিপরীতে দুপুরে পানির সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ১২ দশমিক ৩০ মিটার। সিলেট পয়েন্টে বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮০ মিটারের বিপরীতে পানির সমতল ছিল ৯ দশমিক ৪২ মিটার। দুই পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ক্রমাগত বাড়ছে।

সারিগোয়াইন নদীর সারিঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমা ১২ দশমিক ০৫ মিটারের বিপরীতে দুপুরে পানির সমতল ছিল ১০ দশমিক ৯০ মিটার। গোয়াইনঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমা ১০ দশমিক ৮২ মিটারের বিপরীতে পানি সমতল রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৪১ মিটার। পিয়াইন নদীর জাফলং পয়েন্টে দুপুরে পানির সমতল ছিল ১০ দশমিক ১১ মিটার। লোভাছড়া নদীর সোনাতলা পয়েন্টে পানির সমতল ছিল ১২ দশমিক ৯০ মিটার, আর ধলাই নদীর ইসলামপুর পয়েন্টে পানির সমতল ছিল ৯ দশমিক ৩৫ মিটার। এ সব পয়েন্টেও পানি এখনো বিপৎসীমার নিচে রয়েছে।

সিলেট পানি উন্নয়ন বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাশ বলেন, সামগ্রিকভাবে সিলেট অঞ্চলের নদ-নদীর পানি পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছেন। উজানে ভারতের মেঘালয়ে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকায় আগামী ২৪ ঘণ্টায় পানি বৃদ্ধি পেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।