সিলেটে তীব্র গরম আর ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ জনজীবন। শনিবার (৪ জুলাই) সকাল থেকেই বিভিন্ন এলাকায় তীব্র লোডশেডিং হচ্ছে। এতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। বিশেষ করে ভোগান্তিতে পড়েছেন শ্রমজীবী, শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থরা।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বলছে, সিলেট বিভাগে প্রতিদিন বিদ্যুতের গড়ে চাহিদা রয়েছে ১৮০ থেকে ২০০ মেগাওয়াট। শনিবার সিলেট বিভাগের চাহিদা তুলনায় ২০ শতাংশ কম অর্থাৎ ১৬০ মেগাওয়াট সরবরাহ করা হচ্ছে। সিলেট বিভাগের মধ্যে সিলেট জেলায় চাহিদা রয়েছে ১৫০ মেগাওয়াট। তার বিপরীতে শনিবার সরবরাহ করা হচ্ছে ১২০ মেগাওয়াট।
এদিকে, এ অবস্থার মধ্যে শনিবার সিলেটে বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। আজ সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
এর আগে শনিবার সকাল থেকেই কড়া রোদ ও তাপদাহের কারণে বাইরে বের হওয়া কঠিন হয়ে পড়ছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন শ্রমজীবী ও সাধারণ মানুষ। প্রয়োজন ছাড়া অনেকেই বাসবাড়ি থেকে বের হননি। তীব্র গরমের মধ্যে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ঘর-বাইরে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কোথাও আধা ঘণ্টা, কোথাও এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও অফিস-আদালতে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।
এদিকে, শনিবার সকাল থেকে লোডশেডিং চললেও বিকেল তিনটার দিকে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে লোডশেডিং হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ ১ এবং ২ এর ফেসবুক পেইজে বলা হয়, চাহিদার তুলনায় জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় বিকেল ৩টা থেকে সাময়িকভাবে লোডশেডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া মাত্রই লোডশেডিং প্রত্যাহার করে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হবে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের সিলেট অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন বলেন, গেল দুই-তিনদিন কিন্তু লোডশেডিং হয়নি। তবে আজকে থেকে আবার লোডশেডিং করতে হচ্ছে। কারণ চাহিদার তুলনায় ২০ শতাংশ বিদ্যুৎ আমরা কম পাচ্ছি।
তিনি বলেন, লোডশেডিং ভোগান্তি কবে কমবে এটির একমাত্র জাতীয় লোড ডিসপ্যাচ কেন্দ্র (এনএলডিসি) বলতে পারবে। তারা আমাদের যতটুকু বিদ্যুৎ সরবরাহ করে আমরা সেগুলো দিয়েই প্রতিটি এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখি।
এদিকে, শনিবার সিলেটে চলতি বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এই গরম থেকে সহসা স্বস্তি মিলছে না। বৃষ্টি না হওয়া পর্যন্ত তাপমাত্রার পাশাপাশি আর্দ্রতাজনিত অস্বস্তিও অব্যাহত থাকতে পারে।
সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন জানান, শনিবার সকাল ছয়টা থেকে সন্ধ্যা ছয়টার পরিসংখ্যান অনুযায়ী সিলেটে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা চলতি বছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
তিনি বলেন, উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপটি নিম্নচাপে রূপ নিলে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। পাশাপাশি সিলেটের বিভিন্ন স্থানে হঠাৎ দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আহমেদ জামিল/এনএইচআর/এএসএম








