মাত্র কদিন আগের কথা। ঢাকাই সিনেমার প্রিয়দর্শিনীখ্যাত অভিনেত্রী মৌসুমীকে ঘিরে বেশ আলোচনা-সমালোচনা হয়। ‘কন্ট্রাক্ট ম্যারেজ’ নামে একটি সিনেমাকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয় বিতর্ক। এ সিনেমায় মৌসুমীকে নায়িকা হিসাবে দেখানো হয়েছিল। কিন্তু এতেই আপত্তি তোলেন এ অভিনেত্রী। মূলত একটি নাটক বা টেলিফিল্ম হিসাবে নির্মিত কাজকে পূর্ণদৈর্ঘ্য সিনেমা হিসাবে মুক্তির উদ্যোগকে কেন্দ্র করে নির্মাতা, শিল্পী ও সিনেমাসংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল। বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন পরিচালক হাসান জাহাঙ্গীর সিনেমাটি প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির ঘোষণা দেন। এরপরই মৌসুমী ও তার স্বামী অভিনেতা ওমর সানী প্রকাশ্যে আপত্তি জানান। তাদের দাবি, যে প্রকল্পে মৌসুমী কাজ করেছিলেন, সেটি সিনেমা নয়; বরং একটি নাটক বা টেলিফিল্ম হিসাবে নির্মাণের কথা ছিল। পরে শিল্পীর সম্মতি ছাড়াই সেটিকে সিনেমার রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

ওমর সানী সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় প্রশ্ন তোলেন, লিখিত চুক্তি, পূর্ণাঙ্গ পোস্ট-প্রোডাকশন ও শিল্পীর সম্মতি ছাড়া কীভাবে একটি নাটক সিনেমা সার্টিফিকেশন পায়। বিষয়টি নিয়ে তিনি সিনেমা সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের কাছেও অভিযোগ করেছিলেন। যদিও এ নিয়ে মৌসুমী সরাসরি গণমাধ্যমে কোনো কথা বলেননি। তবে ওমর সানী নিজের ভিডিও বার্তার সঙ্গে মৌসুমীরও একটি অডিও বার্তা যুক্ত করেন। সেখানে অভিনেত্রী বলেন, নির্মাতার বিশেষ অনুরোধে তিনি অতিরিক্ত সময় দিয়ে কাজটি শেষ করেছিলেন, কারণ এটি নাটক বা টেলিফিল্ম হিসাবেই প্রচারের কথা ছিল। কিন্তু সিনেমা হিসাবে মুক্তির জন্য তিনি কোনো ডাবিং করেননি, এ ধরনের কোনো চুক্তিতেও স্বাক্ষর করেননি। এমনকি সিনেমার শিল্পী হিসাবে প্রাপ্য পারিশ্রমিকও তিনি পাননি বলে দাবি করেন। তার মতে, একটি নাটককে পরে সিনেমা হিসাবে উপস্থাপন করা শিল্পী ও দর্শক, উভয়ের সঙ্গেই অসঙ্গত আচরণ।

শিল্পীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সিনেমাটির সেন্সর সনদ বাতিল হয়। অবশ্য পরে নির্মাতা আদালতের মাধ্যমে আপিল করে সিনেমাটি মুক্তির অনুমতি লাভ করেন এবং শেষ পর্যন্ত মুক্তি দেন। মুক্তির পর সেটি মুখ থুবড়ে পড়ে। নেটদুনিয়ায়ও এ নিয়ে বিস্তর সমালোচনা হয়। মৌসুমী কীভাবে নিম্নমানের এমন একটি প্রজেক্টে কাজ করেছেন, ভক্তদের এমন প্রশ্নেরও সম্মুখীন হতে হয়েছে। এ প্রসঙ্গে আর কোনো বিবাদ না হলেও, বিষয়টি নিয়ে মৌসুমী বেশ বিব্রত ও অসম্মানিত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ অভিনেত্রী দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকায় বসবাস করছেন। সেখানেই ‘কন্টাক্ট ম্যারেজ’ প্রজেক্টে কাজ করেছিলেন। কিন্তু একটি নাটক বা টেলিফিল্মকে সিনেমা হিসাবে মুক্তি দেওয়াকে তার জন্য বেশ অসম্মানের বলেই তিনি মনে করেন। এমনিতেই দীর্ঘদিন নতুন কোনো সিনেমায় দেখা যায়নি মৌসুমীকে। সিনেমায় ফিরলে ভালো কিছু দিয়ে ফিরবেন, এমনটাই ইচ্ছা ছিল তার। কিন্তু ‘কন্টাক্ট ম্যারেজ’ তার সেই ইচ্ছায় জল ঢেলে দিয়েছেন। সিনেমা হিসাবে এ কাজটি করেননি বলে এটি নিয়ে তিনি একটি শব্দও উচ্চারণ করতে চান না বলে জানিয়েছেন। একইসঙ্গে এ অভিনেত্রী জানিয়েছেন, আপাতত নতুন কোনো সিনেমার সঙ্গে জড়াতে চান না তিনি। কেন এমন সিদ্ধান্ত সেটাও জানিয়েছেন এ অভিনেত্রী।

২০২৩ সালের অক্টোবরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিলেন মৌসুমী। ওখানেই স্থায়ীভাবে তার মা বসবাস করছেন। মা দীর্ঘদিন যাবত অসুস্থ বলে সেখানেই তিনি মায়ের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন। বলেছেন, চাইলেই তিনি মাকে রেখে এ মুহূর্তে দেশে ফিরতে পারছেন না। অথচ মাঝে মাঝে মৌসুমীর দেশে ফেরা, না ফেরা নিয়ে নানা ধরনের গুজব চাউর হয়। যা পুরোপুরি মিথ্যে বলেই দাবি এ অভিনেত্রীর। স্বামী ওমর সানীর এবং সন্তান ফারদিনের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ আছে তার। মেয়ে ফাইজাহ যুক্তরাষ্ট্রে তার সঙ্গেই থাকেন। মূলত মায়ের অসুস্থতার কারণেই দেশে ফেরা নিয়ে আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই তার। একইসঙ্গে সিনেমায়ও কাজ করার অনাগ্রহের কথা জানিয়েছেন। মৌসুমী বলেন, ‘যেহেতু সহসাই দেশে ফেরা হচ্ছে না, তাই নতুন কোনো সিনেমায়ও আপাতত অভিনয় করার কোনো সম্ভাবনা নেই। দেশে ফিরলেই শুধু নতুন সিনেমায় অভিনয় করার ব্যাপারে চিন্তা ভাবনা করব। এটা সত্যি প্রতি মুহুর্তে দেশকে ভীষণ মিস করি। মিস করি আমার নিজের পরিবার, চলচ্চিত্র পরিবার’সহ আরও অনেককেই। সবাই ভালো থাকুক, এটাই প্রত্যাশা।’