সিরাজগঞ্জে সৌদি আরব প্রবাসী এক যুবককে প্রেম ও বিদেশে পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে এনে অপহরণ, আপত্তিকর ভিডিও ধারণ এবং তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে অপহৃতকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে সলঙ্গা থানায় প্রেস ব্রিফিংয়ে রায়গঞ্জ-সলঙ্গা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম এ তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, বেলকুচি উপজেলার শোলাকুড়া গ্রামের রহিম ফকিরের ছেলে রাসেল ফকির (৩০) সৌদি আরব থেকে তিন মাসের ছুটিতে দেশে এসেছেন। গত ৪ জুলাই বিকেলে তিনি নিখোঁজ হন। পর দিন সকালে তার মোবাইল ফোন থেকে স্ত্রী হাসি খাতুনের কাছে কল আসে। ফোনে এক নারী জানায়, রাসেল তাদের জিম্মায় রয়েছে। তাকে জীবিত ফেরত চাইলে ৩০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দিতে হবে। অন্যথায় তাকে হত্যা করা হবে এবং তার আপত্তিকর ছবি-ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
পরিবারের সদস্যরা অপহরণকারীদের নির্দেশে প্রথমে বিকাশের মাধ্যমে দুই দফায় ৫০ হাজার টাকা পাঠান। এরপর আরও পাঁচ লাখ টাকা নগদ নিয়ে সলঙ্গার তেলকুপি গ্রামে যেতে বলা হয়। এ সময় বিষয়টি জানতে পেরে সলঙ্গা থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপহরণকারীদের অবস্থান শনাক্ত করে।
রবিবার (৫ জুলাই) রাতে ভুক্তভোগীর স্বজনদের সঙ্গে ছদ্মবেশে অভিযান চালায় পুলিশ। মুক্তিপণের টাকা নিতে এলে লাকী খাতুন (২৬) নামে এক নারীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে তার দেওয়া তথ্যে অভিযান চালিয়ে একটি কক্ষের তালা ভেঙে অপহৃত রাসেল ফকিরকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তবে অভিযানের সময় তার এক সহযোগী পালিয়ে যায়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া নারীর কাছ থেকে মুক্তিপণ আদায়ে ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন, একটি সিম কার্ড এবং নগদ ৫০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়েছে।
উদ্ধারের পর রাসেল ফকির জানান, বিদেশে পাঠানোর বিষয়ে কথা বলার কথা বলে লাকী খাতুন তাকে ডেকে নেয়। সেখানে পৌঁছানোর পর তার মোবাইল ফোন কেড়ে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে জোর করে আপত্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে ভিডিও ধারণ করা হয়। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তার পরিবারের কাছে বিপুল অঙ্কের মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, অভিযানে ভুক্তভোগীকে নিরাপদে উদ্ধার এবং মূল আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পলাতক সহযোগীদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় সলঙ্গা থানায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।








